পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং পদ্মা সেতুসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং নদীভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। বুধবার রিট আবেদনকারী মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা মওসুসের চেয়ারম্যান, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গত ২৬ অক্টোবর জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করা হয়। সংস্থার পক্ষে ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া আবেদনটি করেন।
রিটে বলা হয়েছে, পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর প্রাকৃতিক গঠন, নদীতীরের স্থিতিশীলতা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি পদ্মা সেতু ও সংশ্লিষ্ট জাতীয় অবকাঠামোর নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
আবেদনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে তাদের আইনগত দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
রিটে পদ্মা নদীর অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনকারীর বক্তব্য, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও ভারসাম্য নষ্ট হলে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিজমি, মৎস্যসম্পদ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই পদ্মা সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন ও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

