সুপ্রিম কোর্টে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ, পর্যাপ্ত বেঞ্চ গঠন এবং বাজেট বাড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন ২৬ জন আইনজীবী। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা ও আদালতের অবকাঠামো উন্নয়নের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের অনুমতি নিয়ে মঙ্গলবার রিটটি করা হয়। বুধবার আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বিষয়টি জানান।
রিটে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৯১ কোটি টাকা। অথচ একই অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের বিপরীতে এই বরাদ্দ খুবই কম। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য বরাদ্দ ৩৪৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের বরাদ্দের চেয়ে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা বেশি।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৮৩০। এর মধ্যে আপিল বিভাগে ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিচারাধীন ছিল প্রায় ৪২ হাজার মামলা। রিটকারীদের দাবি, বিচারপতি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে মামলাজট বাড়ছে।
রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আপিল বিভাগে পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৯৯ জন বিচারপতি রয়েছেন। বছরে দায়ের হওয়া মামলার মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং আপিল বিভাগে প্রায় ১৮ শতাংশ নিষ্পত্তি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যমান ব্যবস্থায় মামলাজট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রিটকারীরা।
বাজেট ও বিচারকসংখ্যা বাড়ানোর দাবি
রিটে সংবিধানের ৭, ২১, ২২, ২৭, ৩১, ৩২, ৩৫(৩), ৪৪, ৯৪ ও ১১৬ক অনুচ্ছেদের আলোকে বিচারপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
এ জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রয়োজন ও কাজের চাপ বিবেচনায় পর্যাপ্ত, চাহিদাভিত্তিক ও আনুপাতিক বাজেট বরাদ্দের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত বেঞ্চ গঠনের আবেদন করা হয়েছে।
আইনজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত চেম্বার, বসার জায়গা, স্যানিটেশন, সুপেয় পানি ও ডিজিটাল অবকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বিচার বিভাগের জন্য একটি যুক্তিসংগত ও চাহিদাভিত্তিক বাজেট কাঠামো তৈরির আবেদন রয়েছে।
রিটে আরও বলা হয়েছে, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন নিম্ন আদালতের বিচারকের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার থেকে অন্তত ছয় হাজারে উন্নীত করার সুপারিশ করেছিল। তবে সেই সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সর্বোচ্চ আদালতের তুলনায় বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বাজেট কম, অথচ মামলার চাপ বেশি বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের প্রশাসনিক এবং অবকাঠামোগত ব্যয় একই বাজেট থেকে বহন করতে হয় বলে রিটকারীরা যুক্তি দিয়েছেন।
আইনি নোটিশেও সাড়া মেলেনি
রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, অ্যাটর্নি জেনারেল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনকে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, রিট করার আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশে তিন দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে জানাতে বলা হলেও তাঁরা কোনো জবাব দেননি।
রিটে আইনমন্ত্রী গত ২ মে গণমাধ্যমে বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে অবহেলিত খাত’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

