ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রাজধানীর দনিয়া শাখা থেকে ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের চার কর্মকর্তাসহ নয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নারগিস আক্তার নামে এক গৃহিণী।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তিনি মামলাটি করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাদীপক্ষের আইনজীবী মাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার চার কর্মকর্তা এবং গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্র্যাফট লিমিটেডের তিন কর্মকর্তা। তাঁরা হলেন ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেপুটি ম্যানেজার মোহিত মোরশেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার সৌরভ সাহা, রেমিট্যান্স কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মো. গোলাম কিবরিয়া।
অন্য আসামিরা হলেন গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্র্যাফট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাকিম আলী সরদার, ম্যানেজার কাজী এনামুল কবির ও শওকত হাসান। প্রতিষ্ঠানটিকেও আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
যেভাবে টাকা সরানোর অভিযোগ
মামলার এজাহারে নারগিস আক্তার বলেন, জমি ও গাড়ি বিক্রির টাকা এবং বাড়ি ও দোকানভাড়া থেকে পাওয়া সঞ্চয় মিলিয়ে তিনি মোট ১ কোটি ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৩১৯ টাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দনিয়া শাখার হিসাবে জমা রাখেন। তিনি নিরক্ষর হওয়ায় ব্যাংকের কর্মকর্তারা চেক পূরণ ও টাকা জমার কাজে তাঁকে সহযোগিতা করতেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাঁচ লাখ টাকা তুলতে ব্যাংকে গেলে কর্মকর্তারা কৌশলে তাঁর চেক বই থেকে একটি অতিরিক্ত চেক রেখে দেন। একই সঙ্গে ডিপিএস খোলার কথা বলে কয়েকটি কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নেন।
পরে ৪ অক্টোবর ব্যাংকে গিয়ে হিসাবের স্থিতি জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, হিসাবে মাত্র ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২০৪ টাকা রয়েছে। বাকি টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তা মোহিত মোরশেদ তাঁকে বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর ‘পজিটিভ পে ইন্সট্রাকশন’ ফরমের মাধ্যমে একটি চেকে গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্র্যাফট লিমিটেডকে ৮৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
নারগিস আক্তারের দাবি, ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি ব্যাংকে যাননি এবং ওই প্রতিষ্ঠানকে কোনো চেকও দেননি। তাঁর অভিযোগ, ১৭ সেপ্টেম্বর রেখে দেওয়া চেকে জাল স্বাক্ষর ও টাকার পরিমাণ বসিয়ে এবং পজিটিভ পে ফরম তৈরি করে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। এ জন্য পূবালী ব্যাংকের রাজবাড়ী শাখায় ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাবে চেকটি জমা দেওয়া হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, পরে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে আসামি শওকত হাসান পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে নগদ ৮৫ লাখ টাকা তুলে নেন।
বাদীর আরও অভিযোগ, তিনি কোনো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। গত ১ সেপ্টেম্বর খোলা গ্লোবাল গোল্ডেন জুট অ্যান্ড ক্র্যাফট লিমিটেডের হিসাবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় প্রতারণার মাধ্যমে তাঁর টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে।
তবে মামলার অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন। পিবিআইয়ের তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।

