পিরোজপুরের এক বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৬ নভেম্বর তাঁকে আদালতে হাজির হয়ে বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ
হাইকোর্ট আগামী ২৬ নভেম্বর ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেনকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিচারককে নিয়ে তাঁর বক্তব্যের ভিডিও অনলাইন মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত অবমাননার রুল
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান জানান, আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন।
রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, পিরোজপুরের যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ রুমানা মিতুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই সংবাদ সম্মেলনে তা প্রচার করে আদালতের পবিত্রতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে ব্যারিস্টার সারোয়ারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সম্প্রতি ব্যারিস্টার সারোয়ার ওই বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন। প্রমাণিত হওয়ার আগেই একজন বিচারিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এভাবে অভিযোগ প্রকাশ্যে আনার বিষয়টি আদালতের নজরে এসেছে।
এর আগে গত ৫ নভেম্বর বিচারক নাহিদ রুমানা মিতুর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও সুনাম ক্ষুণ্নের অভিযোগে ব্যারিস্টার সারোয়ারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ মাহফুজুল ইসলামের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান ওই নোটিশ পাঠান।
হাইকোর্টে শুনানির সময় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন হানিফ ও তানজিমাৎ মারিয়া উপস্থিত ছিলেন।

