দক্ষিণ কোরিয়ার অপসারিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১৪ এপ্রিল) সিউলের একটি আদালতে এই শুনানি হয়। ইউনের বিরুদ্ধে সামরিক আইন জারি করে দেশের সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
শুনানির শুরুতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, ইউন সামরিক আইন জারি করার পক্ষে কোনো আইনগত ভিত্তি উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং তিনি সংসদকে অকার্যকর করে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউন সুক ইওল বলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল না রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম অচল করে দেয়া। বরং তিনি চেয়েছিলেন জনগণের সামনে তুলে ধরতে যে, বিরোধী দল সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সরকারের কার্যক্রমে বারবার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
শুনানিতে দুইজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার সাক্ষ্য দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন, রাজধানী প্রতিরক্ষা কমান্ডের সদস্য চো সাং হিউন ইতোমধ্যেই ফেব্রুয়ারিতে সাংবিধানিক আদালতের অভিশংসন শুনানিতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, ইউন সামরিক আইন জারির পর তাকে বিরোধী আইনপ্রণেতাদের পার্লামেন্ট থেকে টেনে হিঁচড়ে বের করে দিতে সেনাবাহিনী পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে ইউন এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য গত বছরের ডিসেম্বরে হঠাৎ করেই সামরিক আইন জারি করেছিলেন ইউন। তার দাবি ছিল, রাষ্ট্রবিরোধীদের দমন করতেই এ সিদ্ধান্ত। কিন্তু বিরোধীদের প্রবল চাপের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টার মাথায় তিনি সেই আদেশ প্রত্যাহারে বাধ্য হন। এরপরই পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয় এবং পৃথকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলাও দায়ের করা হয়।

