রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়ের হওয়া এক হত্যাচেষ্টা মামলায় আত্মসমর্পণ করেছেন চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দার ও তার স্ত্রী মিঠু হালদার। আত্মসমর্পণের পর আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
শনিবার (১৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিনহাজুর রহমান এই আদেশ দেন। আদালতে আত্মসমর্পণের পর শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে তাদের পক্ষে আইনজীবী ওহিদুজ্জামান বিপ্লব বলেন, মামলার অভিযোগপত্র আদালত গত ৬ মে আমলে নেন। কিন্তু এর আগের দিন অর্থাৎ ৫ মে মিল্টন সমাদ্দারের মা মৃত্যুবরণ করেন যে কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। এ অবস্থায় আমরা আদালতের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করি। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই শনিবার তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান কিন্তু আদালত তা মঞ্জুর না করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই মামলার পেছনের ঘটনাপ্রবাহ ঘিরে রয়েছে আরও কয়েকটি অভিযোগ। জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১ মে রাতে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে টর্চার সেলে মানুষ নির্যাতন জাল মৃত্যু সনদ তৈরি এবং মানবপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।
পরদিন ২ মে, জাল মৃত্যু সনদ তৈরির অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণা মামলায় আদালত তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর ৫ মে মানবপাচার আইনে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আরও সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক শিকদার মাইতুল আলম। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব তার গ্রেপ্তার মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী শুনানিতে ম্যাজিস্ট্রেট বেগম শান্তা আক্তারের আদালত তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে ৯ মে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় পর্যায়ক্রমে জামিন পেয়ে তিনি কারামুক্ত হন।
তবে এসব মামলার তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আতাউর রহমান মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এই মামলায় মিল্টনের পাশাপাশি অভিযুক্ত করা হয় তার স্ত্রী মিঠু হালদারকেও।
বর্তমানে এই মামলায় তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থা ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।

