আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে পৃথক একটি নাশকতার মামলায়ও তাকে আরেকদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার, ১৮ মে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দীন পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তিনি সেদিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন। গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
চিন্ময়ের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে ইসকন অনুসারীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এসময় আদালত চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। দুপুরের পর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়ে আদালত এলাকা ও আশপাশে মসজিদ, দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।
ওইদিন বিকেলে আদালতের প্রধান ফটকের বিপরীতে রঙ্গম কনভেনশন হলের গলিতে একদল ইসকন অনুসারীর হামলায় নিহত হন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম। ঘটনার তিন দিন পর, ২৯ নভেম্বর রাতের দিকে নিহত সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
সেই একই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশসহ অন্য ভুক্তভোগীরাও কোতোয়ালি থানায় আরও চারটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। মোট পাঁচটি মামলার তদন্তে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সম্পৃক্ততা পাওয়ার দাবি করে পুলিশ। এরপর সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে তাকে গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আবেদন করে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে পৃথকভাবে চিন্ময়কে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
এসব মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে আদালত সম্প্রতি তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন, যা তদন্তের অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

