সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেড় দশক আগে দায়ের হওয়া এবং হাইকোর্টে বাতিল হওয়া একটি দুর্নীতির মামলা পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া এ মামলায় ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা বার্জ মাউন্টেড প্রকল্প বাস্তবায়নে ঘুষ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছিল।
হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে দুদক ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করেছে, যার শুনানির জন্য ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেছে আপিল বিভাগ। রোববার (১৮ মে) বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চ এই দিন নির্ধারণ করে। ওই শুনানি হবে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক উপাদান রয়েছে। তিনি মামলার এজাহারনামীয় আসামি। মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তাই মামলা বাতিলের আইনগত সুযোগ নেই এবং মামলাটি আবারও সচল করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দুদকের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসিফ হাসান জানান, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুদক ‘লিভ টু আপিল’ করেছে এবং এই আপিলের শুনানি ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে তিন কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। এর বিনিময়ে বেসরকারি খাতে তিনটি ভাসমান বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে সুবিধা দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুদক এ অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা করে। পরের বছর ২০০৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি, দুদক অভিযুক্ত সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-১-এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। তবে শেখ হাসিনার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলার বিচার স্থগিত করে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনা মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রুল শুনানির উদ্যোগ নেন। সেই রুলের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১৩ এপ্রিল বিচারপতি মো. শামসুল হুদা ও বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের পর প্রায় দেড় দশক ধরে দুদক আপিল বিভাগে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
তবে পরিস্থিতি বদলায় গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর। ওই সময় দুদক মামলাটি সচল করতে নতুন করে উদ্যোগ নেয় এবং হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে ৫ হাজার ৪৫২ দিন পর আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ দায়ের করে। এরপর গত ১৭ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আবেদনটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে এটি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় রয়েছে এবং আগামী ১৫ জুলাই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই উদ্যোগের ফলে বহুল আলোচিত মামলাটি আবারও আইনি আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে এসেছে। এখন অপেক্ষা ১৫ জুলাইয়ের শুনানির, যেখানে মামলাটি পুনরায় চালু হবে কি না তা নির্ধারিত হবে সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে।

