সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যদের ওপর হামলা, চেম্বার ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামিন পাওয়া আওয়ামীপন্থি ৬১ জন আইনজীবীর জামিন স্থগিতই থাকবে বলে আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে জামিন-সংক্রান্ত হাইকোর্টের দেওয়া রুল আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৯ মে) প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। শুনানিতে আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান ও মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া।
এ মামলায় আওয়ামী লীগপন্থি মোট ১৪৪ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়, সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় তারা আইনজীবীদের মারধর, চেম্বার ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টা চালান। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা হয়। পরে অভিযুক্তদের মধ্যে ১১৫ জন হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন।
জামিনের মেয়াদ শেষ হলে গত ৬ এপ্রিল ৮৩ জন আসামি ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। আদালত সেদিন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ সাগর এবং ১৮ জন নারী আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু জামিন না পাওয়া বাকি ৬১ জনকে কারাগারে পাঠানো হয় কারণ তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিষয়ে আদেশ হয়নি।
এরপর হাইকোর্ট ২২ এপ্রিল এই ৬১ জন আইনজীবীকে জামিন দেন। তবে ২৯ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ওই জামিন স্থগিত করে মামলাটি নিয়মিত আপিল বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আজ সেই শুনানি শেষে আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশ বহাল রেখে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের এই আদেশের ফলে ৬১ আইনজীবীকে আপাতত জামিনে মুক্তি পাচ্ছেন না। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাবন্দি অবস্থায় থাকতে হবে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে জামিন মিলবে কি না তা নির্ভর করছে হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তির ওপর।

