তুরস্কে ফেতুল্লাহ গুলেনের সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দেশটির সেনাবাহিনীর ৫৬ জন সদস্য এবং ৯ জন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ মে) সকালে স্থানীয় সময় ৬টায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বেশিরভাগই ইস্তাম্বুলে কর্মরত ছিলেন। খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, অভিযানটি ইস্তাম্বুলকেন্দ্রিক ৩৬টি প্রদেশজুড়ে পরিচালিত হয়। অভিযানে ৫৬ জন সক্রিয় সেনাসদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও সাতজনকে খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশি চলছে।
তুর্কি কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের সঙ্গে প্রয়াত ধর্মপ্রচারক ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ফেতুল্লাহ গুলেনের সংযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছে। সরকার গুলেনের নেতৃত্বাধীন হিজমেত আন্দোলনকে “ফেতুল্লাহ সন্ত্রাসী সংগঠন (FETO)” নামে আখ্যায়িত করে থাকে, যা এক সময় তুরস্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নীরবে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল।
এক সময় এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত হন ফেতুল্লাহ গুলেন। ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের জন্য তুরস্ক সরকার বরাবরই তাকে দায়ী করে আসছে। গত বছর অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রেই মৃত্যুবরণ করেন গুলেন, তবে তার মৃত্যুর পরও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে কোনো শিথিলতা দেখায়নি আঙ্কারা।
তুরস্কের হাল্ক টিভির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শুক্রবারের অভিযানে বিমান, স্থল এবং নৌবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই পদক্ষেপ আবারও ইঙ্গিত দেয় যে, গুলেনের সংগঠন ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক সরকার।

