একসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের কৌশল ছিল বেশ সতর্ক। কেউ সরাসরি বিরোধে যেতে চাইতেন না, কেউ আবার সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কঠোর ভাষা ব্যবহার করতেন না। কারণ যুক্তরাষ্ট্র শুধু একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্র নয়, ইউরোপের নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সামরিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক ভারসাম্যের সঙ্গে দেশটির ভূমিকা গভীরভাবে জড়িত। তাই ট্রাম্পের নানা বিতর্কিত মন্তব্য বা আচরণ নিয়েও অনেক নেতা দীর্ঘদিন ধরে নীরবতা বা মৃদু প্রতিক্রিয়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, সেই নীরবতার জায়গা এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ট্রাম্পকে ঘিরে যে অস্বস্তি অনেক দিন ধরে জমে ছিল, তা এখন প্রকাশ্য সমালোচনায় রূপ নিতে শুরু করেছে। ব্যক্তিগত মন্তব্য, বাণিজ্যনীতি, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান, গ্রিনল্যান্ড বিতর্ক এবং ন্যাটো মিত্রদের প্রতি অসম্মানজনক ভাষা—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে পশ্চিমা মিত্রদের সম্পর্ক নতুন এক টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে।
এই অস্বস্তির সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। মাত্র দুই দিন আগেও ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে তাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে বসে আলোচনা করতে দেখা যায়। ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে তোলা সেই ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিটি দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন, দুই নেতার সম্পর্ক হয়তো এখনো স্বাভাবিক আছে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ধারণা ভেঙে যায়।
ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা-সেভেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি নাকি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য অনুনয়-বিনয় করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তার বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতও ছিল যে তিনি যেন মেলোনিকে কিছুটা প্রশ্রয় দিচ্ছিলেন। সাধারণত এমন মন্তব্যের জবাবে কূটনৈতিক ভাষায় সংক্ষিপ্ত অস্বীকার জানিয়ে বিষয়টি শেষ করা যেত। কিন্তু মেলোনি তা করেননি। বরং তিনি সরাসরি এবং কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান।
২০ জুন ২০২৬, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় মেলোনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ বানোয়াট। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন তার মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করছেন। তার বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ছিল—ট্রাম্প মিত্রদের সামনে কঠোর ভাষা ব্যবহার করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রুভাবাপন্ন শক্তির ক্ষেত্রে তাকে অনেক বেশি নমনীয় দেখা যায়।
মেলোনির এই প্রতিক্রিয়া শুধু ব্যক্তিগত অপমানের জবাব ছিল না। এটি ছিল এক ধরনের রাজনৈতিক বার্তা। তিনি বুঝিয়ে দেন, মিত্রতা মানে নীরবে সব অপমান মেনে নেওয়া নয়। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে তিনি নিজের মর্যাদা এবং দেশের অবস্থান রক্ষার প্রশ্নে প্রকাশ্যে কথা বলতে প্রস্তুত।
ইতালির প্রতিক্রিয়া শুধু কথায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত সফর বাতিল করেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি। পাশাপাশি মায়ামিতে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র–ইতালি ব্যবসায়িক সম্মেলনও বাতিল করা হয়। এই পদক্ষেপগুলো দেখায়, বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত মনোমালিন্য নয়; বরং দুই মিত্র দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ছে।
মেলোনির অবস্থান বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তাকে একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ধারার নেতা হিসেবে দেখা হতো। মতাদর্শগতভাবে দুজনের মধ্যে অনেক মিল আছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলি দেখাচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বাস্তবতা শুধু মতাদর্শ দিয়ে চলে না। জাতীয় স্বার্থ, কূটনৈতিক মর্যাদা এবং নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত সেখানে অনেক বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও একইভাবে ট্রাম্পের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চলতি সপ্তাহে জি-৭ সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের সম্মানে ভার্সাই প্রাসাদে রাজকীয় নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন তিনি। কিন্তু সৌজন্যের আবহের মধ্যেও সম্পর্কের ভেতরের টানাপোড়েন প্রকাশ পেয়ে যায়। একটি পুরোনো ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, মাখোঁ নাকি তার স্ত্রীর হাতের থাপ্পড় খেয়ে এখনো সামলে উঠতে পারেননি। ব্যক্তিগত জীবনের এমন মন্তব্য কূটনৈতিক পরিসরে অস্বস্তিকর বলেই বিবেচিত হয়।
মাখোঁ এর জবাবে বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য মার্জিত ছিল না এবং রাষ্ট্রপ্রধানসুলভ আচরণের মানদণ্ডেও পড়ে না। এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া নয়; বরং একজন রাষ্ট্রনেতার আচরণ কেমন হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নও সামনে আনে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্যক্তিগত বিদ্রূপ কখনোই হালকা বিষয় নয়, বিশেষ করে যখন তা মিত্র দেশের নির্বাচিত নেতাকে লক্ষ্য করে করা হয়।
ইরান যুদ্ধ নিয়েও মাখোঁ ট্রাম্পের অবস্থানের সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যুদ্ধ কোনো নাটক বা প্রদর্শনী নয়। তার এই মন্তব্যে ইউরোপীয় উদ্বেগের একটি বড় দিক প্রকাশ পায়। ইউরোপের অনেক দেশ মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকে না। জ্বালানি বাজার, শরণার্থী সংকট, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও তার চাপ পড়ে।
ইরান ইস্যুতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও কড়া ভাষায় কথা বলেছেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে বেপরোয়া ও অবৈধ বলে আখ্যা দেন। তার বক্তব্য ছিল, শুধু কারও প্রতিশোধের ভয়ে স্পেন এমন কোনো কাজে সহযোগী হবে না, যা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও তিনি ট্রাম্পের অবস্থানকে কটাক্ষ করে বলেন, পৃথিবীতে আগুন লাগিয়ে পরে এক বালতি পানি নিয়ে এলে স্পেন সরকার তাতে হাততালি দেবে না।
এই ধরনের মন্তব্য বুঝিয়ে দেয়, ইউরোপীয় নেতারা এখন শুধু পর্দার আড়ালে উদ্বেগ জানাচ্ছেন না। তারা প্রকাশ্যে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত যদি তাদের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলে, তাহলে তারা নীরব থাকবে না। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক ধাক্কা অনেক ইউরোপীয় দেশকেই অস্বস্তিতে ফেলেছে। জ্বালানি খরচ, বাজার অস্থিরতা এবং সামরিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে ইউরোপের জন্য এই সংকট ছিল বাস্তব উদ্বেগের বিষয়।
ট্রাম্পকে ঘিরে ক্ষোভের সূত্র অবশ্য আরও আগে তৈরি হয়েছিল। বছরের শুরুতে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার মন্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি করে। গত জানুয়ারিতে তিনি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখল বা কিনে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। গ্রিনল্যান্ড শুধু ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত ভারসাম্যের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই এমন মন্তব্যকে অনেকেই মিত্র রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও ট্রাম্পের অর্থনৈতিক কৌশল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে দেওয়া ভাষণে তিনি ইঙ্গিত করে বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ককে অস্ত্র হিসেবে এবং শুল্ককে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি নিয়ে মিত্রদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কারণ শুল্ক ও বাণিজ্যচাপ শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের ওপর নয়, মিত্র দেশের অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলে।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে ন্যাটোর সেনারা নাকি ফ্রন্টলাইনে গিয়ে যুদ্ধ করা এড়িয়ে চলতেন। এই মন্তব্য ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে অত্যন্ত অপমানজনক হিসেবে দেখা হয়। কারণ আফগানিস্তান যুদ্ধে ন্যাটোর এক হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছিল। স্টারমার একে অপমানজনক এবং অত্যন্ত হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেন। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে পরের দিন ট্রাম্প ব্রিটিশ সেনাদের সাহসিকতার প্রশংসা করে ক্ষতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।
এখানে একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসে—কেন এখন মিত্ররা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলছে? এর উত্তর খুঁজতে হলে কয়েকটি বিষয় দেখতে হয়।
প্রথমত, ইউরোপীয় নেতারা বুঝতে পারছেন, নীরবতা সব সময় সম্পর্ক রক্ষা করে না। বরং বারবার ছাড় দিলে তা দুর্বলতা হিসেবে দেখা হতে পারে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাষা অনেক সময় ব্যক্তিগত, আক্রমণাত্মক এবং প্রচারমুখী। এই ভাষা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কার্যকর হতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তা মিত্রদের জন্য অপমানজনক হয়ে উঠতে পারে।
দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইউরোপীয় নেতাদের নিজেদের জনগণের কাছেও জবাবদিহি করতে হয়। কোনো বিদেশি নেতা যদি তাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট বা সেনাদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন, তাহলে চুপ থাকা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। মেলোনি, মাখোঁ, সানচেজ, স্টারমার—প্রত্যেকেই নিজেদের দেশের ভেতরের জনমতও বিবেচনায় রাখছেন।
তৃতীয়ত, যুদ্ধ ও অর্থনীতির প্রশ্নে ইউরোপের স্বার্থ সব সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ইরান সংকট, বাণিজ্যযুদ্ধ, শুল্কনীতি ও আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত প্রশ্নে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান দেখাতে চাইছে। তারা জানাতে চাইছে, মিত্রতা থাকবে, কিন্তু অন্ধ আনুগত্য নয়।
চতুর্থত, ট্রাম্পের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও মিত্রদের হিসাব বদলাচ্ছে। একসময় অনেক নেতা ভাবতেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সংঘাতে গেলে কূটনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু এখন একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য, নীতি ও আচরণের কারণে অনেকেই মনে করছেন, প্রকাশ্যে জবাব দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। ফলে ব্যক্তিগত অস্বস্তি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক অবস্থানে রূপ নিচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, ট্রাম্পকে ঘিরে ইউরোপীয় মিত্রদের বর্তমান ক্ষোভ কোনো এক দিনের ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষের ফল। মেলোনির প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া সেই জমে থাকা ক্ষোভকে দৃশ্যমান করেছে মাত্র। মাখোঁর জবাব, সানচেজের সমালোচনা, কার্নির সতর্কতা, স্টারমারের ক্ষোভ—সব মিলিয়ে পশ্চিমা মিত্রতার ভেতরে নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। কিন্তু সেই সম্পর্কের ভেতরেও মর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান এবং নীতিগত ভারসাম্যের দাবি জোরালো হচ্ছে। ট্রাম্পের সামনে তাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—তিনি কি মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ককে ব্যক্তিগত মন্তব্য ও রাজনৈতিক প্রদর্শনীর জায়গা থেকে সরিয়ে আবার কূটনৈতিক আস্থার পথে ফিরিয়ে আনতে পারবেন, নাকি তার আচরণ পশ্চিমা জোটের ভেতরের ফাটল আরও বড় করে তুলবে?
বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার করেছে—ইউরোপীয় মিত্ররা আর আগের মতো নীরব দর্শক থাকতে রাজি নয়। ট্রাম্পের বক্তব্য যদি তাদের মর্যাদা, স্বার্থ বা নিরাপত্তাকে আঘাত করে, তারা এখন প্রকাশ্যেই তার জবাব দিতে প্রস্তুত।

