সৌদি আরবে সরকারি দুর্নীতি দমন অভিযান আরো জোরদার হয়েছে। চলতি মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ঘুষ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ১২০ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির দুর্নীতি প্রতিরোধ সংস্থা নাজহা। অভিযুক্তরা সৌদি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
নাজহা-র বিবৃতিতে জানানো হয়, মে মাসে মোট ৪৩৫ জন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, নগর প্রশাসন, আবাসন, মানব সম্পদ, পরিবহন, স্বাস্থ্য, কর, যাকাত ও কাস্টমস বিভাগসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত।
প্রাথমিক তদন্তে ১২০ জনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নাজহা জানিয়েছে, সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় অর্থনীতি ও সরকারি তহবিল সুরক্ষা করতে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। সংস্থাটি বলেছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।
সৌদির স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এক বছরের মধ্যে ১ হাজার ৭০৮ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের অনেকেই ছিলেন উচ্চপদস্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের এই ধরণের দৃষ্টান্তমূলক অভিযান দেশটির প্রশাসনিক সংস্কারে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। প্রশাসনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সৌদি সরকার উন্নয়নের গতিকে তরান্বিত করতে চায়।
সাম্প্রতিক এই গণগ্রেপ্তার সৌদি আরবের দুর্নীতি দমন প্রচেষ্টার সর্বশেষ ধাপ। জনসেবা খাতকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে নেয়া এই পদক্ষেপ শুধু দেশীয় প্রশাসনে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সৌদির ভাবমূর্তিকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত নজরদারি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনিক দক্ষতা ও নৈতিকতা বৃদ্ধির পথ সুগম হবে।

