সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় লেবানন সংকটকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, বৈঠকের সূচনাতেই লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে একটি জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং এটিই হবে আলোচনার প্রথম বিষয়।
আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন। যাত্রার আগে তিনি জানান, তার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে লেবাননে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রগতি অর্জন করা। অন্যদিকে, একজন ইরানি কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, তেহরানের প্রতিনিধি দলের কাছেও লেবানন সংঘাত বন্ধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, লেবাননে ইসরাইলি হামলা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। বর্তমানে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের প্রথম শর্তই ছিল লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। সেই সমঝোতার পর এবারই প্রথম দুই পক্ষ সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকে বসেছে।
লেবানন ছাড়াও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসছে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। শনিবার ইরানের সামরিক কমান্ড হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেয় এবং এর পেছনে লেবাননের পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি না হলে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই টোল আরোপের বিষয় বিবেচনা করতে পারে।
পারমাণবিক ইস্যুতেও দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান প্রাথমিক সমঝোতায় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সেই প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ইউরেনিয়াম কর্মসূচি—এই তিনটি বিষয়েই অগ্রগতি হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা অনেকটাই কমতে পারে। তবে এসব ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য এখনও যথেষ্ট বড় হওয়ায় আলোচনার ফলাফল নিয়ে সতর্ক আশাবাদই দেখা যাচ্ছে।

