‘মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকরণ কার্যক্রম-২০২৫’ চলাকালে বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাছ, অবৈধ জাল, বোটসহ প্রায় ৯৯ কোটি ২১ লাখ টাকার মৎস্যসম্পদ ও উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সময়কালে বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এ সময় দেশের জলসীমায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে।
এই ৫৮ দিনের অভিযানে নৌবাহিনী মোট ২৭৫টি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জব্দ করা হয় ৩৬ লাখ ২৮ হাজার ১১০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ২ হাজার ৭৪৪টি বিভিন্ন ধরনের মাছ ধরার জাল, ৫৭টি মাছ ধরার বোট এবং ১৬ হাজার ৩২৮ কেজি মাছ। পাশাপাশি আটক করা হয় ৫০৫ জন জেলেকে। জব্দ করা সব উপকরণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯৯ কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
অভিযান চলাকালে জব্দ মাছ স্থানীয় এতিমখানাগুলোতে বিতরণ করা হয়, যা একটি মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। অন্যদিকে, জব্দকৃত অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য কর্মকর্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়। আটককৃত বোট ও জেলেদের স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয় আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে।
নৌবাহিনীর এ অভিযানে চারটি যুদ্ধজাহাজ ও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্যাট্রল বোট সমুদ্রসীমা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিয়মিত টহলে নিয়োজিত ছিল। সেই সঙ্গে বেআইনিভাবে মাছ ধরার কার্যক্রম প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয় অত্যাধুনিক মেরিটাইম প্যাট্রল এয়ারক্র্যাফট, যা বঙ্গোপসাগরে সুনির্দিষ্ট নজরদারিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের প্রজনন, উৎপাদন এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে টেকসই আহরণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে নৌবাহিনী। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমেও নৌবাহিনী অবদান রাখছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই অভিযান মৎস্যসম্পদের প্রাচুর্য বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় একটি সফল ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

