মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন আর নেই। শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। শনিবার রাত ১টা ২৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, মুক্তিযোদ্ধা সমাজ এবং নিজ এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার বিকেলে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন মোশারফ হোসেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জয় বাংলা বাহিনীর নোয়াখালী ও হাতিয়া অঞ্চলের জোনাল কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অবদান স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।
ছাত্রজীবনেও তিনি ছিলেন সক্রিয় নেতৃত্বের প্রতীক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী জোটের প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোশারফ হোসেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের সদস্য এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বলেছেন, মোশারফ হোসেন ছিলেন একজন সাহসী রাজনীতিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

