সারা দেশে চলাচলকারী বাস, মিনিবাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের জন্য অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এ নির্দেশনা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন বিভাগের সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩৬ নম্বর ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বাস ও মিনিবাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ বছর এবং ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ মালবাহী মোটরযানের আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ২৫ বছর। অর্থাৎ একটি যানবাহন নির্ধারিত বছর অতিক্রম করলে তা আর জনসাধারণের পরিবহন কিংবা পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করা যাবে না।
সরকার বলছে, এই সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছে এবং এর লক্ষ্য হলো সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানো, পরিবেশগত ঝুঁকি কমানো এবং চলাচলের উপযোগী যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। বাস্তবতায় দেখা যায়, বহু পুরনো যানবাহন এখনো দেশের সড়কে চলাচল করছে, যেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যেমন বেশি, তেমনি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেশি। সেই জায়গা থেকেই সরকার পরিবহন খাতকে আরও নিরাপদ ও টেকসই করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকরে পরিবহন মালিকদেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। যেসব যানবাহন ইতিমধ্যে ২০ বা ২৫ বছর অতিক্রম করেছে, সেগুলোর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন যান নামাতে হবে সড়কে। সরকারের পক্ষ থেকে এখন দেখার বিষয়, আদেশ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে কতটা কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।
এখন সময় দেখার, এই উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং দেশের সড়ক ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কতটা ভূমিকা রাখে। সরকার যে ‘অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল’-এর মতো একটি কাঠামোগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তা নিঃসন্দেহে দেশের পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের এক অনিয়মের জট খোলার শুরু হতে পারে।

