চানখাঁরপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৯ জুন দিন ঠিক করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের জন্য রাষ্ট্রের খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
রোববার বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন গাজী মোনাওয়ার হোসাইন তামিম। জুলাই ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের হওয়া এটি প্রথম মামলা, যার অভিযোগ গঠনের শুনানি হতে যাচ্ছে। মামলার মোট আসামি আটজন। তাদের মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্যকে এরইমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—পুলিশ পরিদর্শক আরশাদ, কনস্টেবল মো. সুজন, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম। এদিন তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্য চার আসামি এখনও পলাতক। তারা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মো. ইমরুল। পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হতে গত ৩ জুন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।
তদন্ত সংস্থার দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের জুলাইয়ে রাজধানীর চানখাঁরপুলে নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায় অভিযুক্তরা। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া নিহত হন। এই মামলার অভিযোগ গত ২৫ মে আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
ওইদিন প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি জানান, “তাদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির ভিত্তিতে আলাদা তদন্ত চলছে। তাই তারা এখন এই মামলার আসামি নন। তবে তাদের নির্দেশনার বিষয়টি চার্জশিটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা তা বাস্তবায়ন করেন।”
৯০ পৃষ্ঠার এই তদন্ত প্রতিবেদনে মোট ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রয়েছে। রয়েছে ১৯টি ভিডিও, ১১টি পত্রিকা রিপোর্ট, ২টি অডিও ক্লিপ, ১১টি বই ও রিপোর্ট এবং ৬টি মৃত্যুসনদ। পুরো তদন্তে সময় লেগেছে ছয় মাস ১৩ দিন।

