আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পলাতক শেখ হাসিনা ও শাকিল আকন্দা বুলবুলের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া প্রতিরক্ষা আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিনুল গনি টিটুকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ, মাত্র ১০ মাস আগেই টিটু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। এমনকি ফেসবুকে তাকে “মিথ্যাবাদী” বলে আখ্যা দিয়ে ফাঁসির দাবি জানিয়েছিলেন।
গত ১৯ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ হাসিনা ও বুলবুলের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলায় টিটুকে প্রতিরক্ষা আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয়। যদিও তিনি এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষের একজন প্রসিকিউটর হিসেবেও কাজ করেছেন।
টিটুর এই নিয়োগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন নিজেই যে ব্যক্তি হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিলেন, তিনি কীভাবে এখন তার পক্ষে দাঁড়াতে পারেন? সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, “এটি নৈতিক দ্বন্দ্বের জায়গা। একজন আইনজীবী যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন, তাহলে তার পক্ষে আদালতে দাঁড়ানো বাস্তবসম্মত নয়। এতে স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।”তিনি আরও বলেন, “একজন মক্কেলের পক্ষে লড়ার জন্য এমন আইনজীবী প্রয়োজন যিনি নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভাবমূর্তির অধিকারী।”
টিটুর পুরনো ফেসবুক পোস্ট ঘিরেও আলোচনা চলছে। একজন ব্যবহারকারী পুরনো স্ট্যাটাসে মন্তব্য করে লেখেন, “স্যার, আপনি নাকি শেখ হাসিনার পক্ষের আইনজীবী? এখন কী করবেন তাহলে?” অন্য একজন লেখেন, “এই হচ্ছে পক্ষের আইনজীবীর অবস্থা। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এটি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত, এ বিষয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার আমার নেই।” এছাড়া মামলায় স্টেট ডিফেন্স কাউন্সিল হিসেবে টিটুকে নিয়োগের পাশাপাশি সিনিয়র আইনজীবী এ.ওয়াই. মাসিউজ্জামানকে অ্যামিকাস কিউরি বা ‘আদালতের বন্ধু’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
আদালত শেখ হাসিনা ও শাকিল আকন্দা বুলবুলকে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিল। কিন্তু তারা নির্ধারিত তারিখে হাজির হননি। বর্তমানে তারা পলাতক। এই মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী ২৫ জুন নির্ধারিত রয়েছে

