চট্টগ্রামে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী প্রজ্ঞা নন্দী মেঘা ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মারা যাওয়ায় তার বাবা পলাশ কুসুম নন্দী তিনজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সোমবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর ছিদ্দিকের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বেঞ্চ সহকারী নূরে খোদা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিবাদী হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে নগরের সার্সন রোডের নিউ লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ডা. সমৃদ্ধি চৌধুরী, হাসপাতালের এমডি সুমন চক্রবতী এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষকে। বাদীর পক্ষে আইনজীবী পার্থ প্রতীম নন্দী জানান, আদালত তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলা থেকে মৃত্যুর অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞা নন্দী মেঘা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। কয়েক মাস আগে তার মাথা ব্যথা শুরু হয়। ১৫ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাহাবুবুল আলম খন্দকার তাকে মাইগ্রেন্ট মাথাব্যথা বলে কিছু ওষুধ দেন। পরে ২৫ মার্চ স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ পঞ্চানন দাশও একই রকম ওষুধ দেন। ২৬ মার্চ ম্যাক্স হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করানো হয়, যা নরমাল রিপোর্ট আসে।
১ জুন কিশোরীর মাথা ব্যথা শুরু হলে ২ জুন তাকে নিউ লাইফ হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে ডা. সমৃদ্ধি চৌধুরী তার শারীরিক পরীক্ষা করে কোনো জটিলতা না থাকায় স্যালাইন দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। কিছু ইনজেকশন দেওয়ার ২০ মিনিট পর প্রজ্ঞা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এরপর তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। রোগীর স্বজনরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কল দিতে চান, কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি।
রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষকে ডাকা হয়। তিনি কিছুক্ষণ পর আসেন এবং শীঘ্রই চলে যান, তবে তেমন কোনো চিকিৎসা দেননি। রাত পর্যন্ত প্রজ্ঞার হাত-পা কালো হয়ে যায় এবং শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে রাতে ১০টার দিকে তাকে পার্কভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগে মৃত ঘোষণা করা হয়। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে প্রজ্ঞা মারা গেছেন

