জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পৃথক মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস ও তার স্ত্রী নীলিমা দাসের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। বুধবার (২৫ জুন) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন গালিব দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. তানজির আহমেদ।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের সাবেক এমপি মৃণাল ও তার স্ত্রী নীলিমা গোপনে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন—এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে চলমান তদন্ত ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে, চলতি বছরের ১৮ মার্চ মৃণাল কান্তি দাস ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক। এক মামলায় তারা দু’জনই আসামি। অপর মামলায় মৃণাল একাই অভিযুক্ত।
মৃণালের বিরুদ্ধে করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, তিনি জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৭ হাজার ২৩০ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। একইসঙ্গে, ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তার আটটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ২২ লাখ টাকা জমা এবং ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেন হয়েছে।
দুদকের ভাষ্য, দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের উৎস গোপন করতে এসব সম্পদ রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেছেন মৃণাল কান্তি। অপরদিকে, দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জুলফিকারের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, স্বামীর সহায়তায় নীলিমা দাস ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে তার ৩০টি ব্যাংক হিসাবে ৮ কোটি ১২ লাখ টাকা জমা এবং ৮ কোটি ৬ লাখ টাকা উত্তোলনসহ মোট ১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকার লেনদেনকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে দুদক। এ সম্পদের প্রকৃত উৎস গোপন করতে তিনিও অর্থ রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেছেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। এর আগে, ২০২৩ সালের ২৪ অক্টোবর একই ধরনের আরেকটি আবেদনের প্রেক্ষিতে মৃণাল ও তার স্ত্রীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আদালত।
সেই আবেদনে দুদক জানিয়েছিল, মৃণাল কান্তি দাসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান চলছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ঢাকার ধানমন্ডিতে মৃণালের নামে ১৭৮৫ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। এছাড়া পূর্বাচলে সাড়ে সাত কাঠার একটি প্লটেরও খোঁজ মিলেছে, যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। অন্যদিকে, মোহাম্মদপুরে নীলিমা দাসের নামে সাড়ে ১০ কাঠার ওপর নির্মিত একটি বহুতল ভবনের তথ্যও দুদকের হাতে এসেছে।

