সরকার মাদকবিরোধী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বললেও আদালতের রায় বলছে ভিন্ন কথা। গত পাঁচ বছরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের করা মামলাগুলোর মধ্যে ৫৭ শতাংশেই আসামিরা খালাস পেয়েছেন। এর একটিতেও আপিল করেনি রাষ্ট্রপক্ষ।
২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত অধিদপ্তর মোট ১৩ হাজার ৩৭৬টি মামলা করেছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫২৯টির আসামিরা খালাস পেয়েছেন। শুধু ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসেই রায় হয়েছে ১ হাজার ৭৩টি মামলায়। এর মধ্যে ৫৯৯ মামলার সব আসামিই খালাস পেয়েছেন।
আজ ২৬ জুন, মাদকবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। এই দিনে মাদক মামলার এমন চিত্র অনেককেই ভাবাচ্ছে। আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকি বলেন, এজাহার ও তদন্তে দুর্বলতা, সাক্ষীর অনুপস্থিতি এবং প্রমাণের অভাবে খালাসের হার বাড়ছে। অভিযোগ দাঁড় না করায় আপিলও হয় না। আদালতের পর্যবেক্ষণে প্রায়ই উঠে এসেছে—তদন্ত দুর্বল, সাক্ষ্য অসংলগ্ন, জব্দ তালিকায় অস্পষ্টতা, বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্যে অমিল, জবানবন্দি সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ না হওয়া এবং আলামত সুরক্ষায় ঘাটতির কথা।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ সূত্র জানায়, সময়ের চাপে তদন্ত কর্মকর্তারা প্রায়ই শুধু এজাহারনির্ভর অভিযোগপত্র দেন। এতে থেকে যায় অনেক ভুল। অভিযানের সময় ছবি বা ভিডিও সংযুক্ত করা হয় না। এতে আদালতে গিয়ে অভিযোগ টেকে না। অধিদপ্তরের এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, আদালত সব বিষয় বিবেচনায় রায় দেন। আমরা অভিযোগ প্রমাণে যথাসাধ্য চেষ্টা করি। প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবছর অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় খালাসের হার বেশি হলেও কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চালু হয়নি। পুলিশ সদর দপ্তর মাদক মামলায় সাজার হার বাড়াতে নির্দেশনা দিয়েছে। বলা হয়েছে—
-
সাক্ষীদের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় সঠিকভাবে নিতে হবে
-
জব্দ তালিকায় ছবি-ভিডিও সংযুক্ত করতে হবে
-
সাক্ষীদের উপযুক্তভাবে আদালতে পাঠাতে হবে
-
তদন্ত শেষে চার্ট অব এভিডেন্স দাখিল ও সময়মতো সাক্ষী হাজির নিশ্চিত করতে হবে
ডিএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদ আলী বলেন, অনেক সময় সাক্ষী হিসেবে ভাসমান বা অস্থায়ী ব্যক্তিদের রাখা হয়। পরে তাঁদের পাওয়া যায় না। এসব চিহ্নিত করে আমরা কাজ করছি। খালাসের হার ধীরে ধীরে কমছে। অধ্যাপক ড. ওমর ফারুক (চেয়ারম্যান, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) বলেন, অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে অভিজ্ঞ পিপির আইনি মতামত বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে অভিযোগ প্রমাণ সহজ হবে। নিয়মিত আপিল না হলে বিচারব্যবস্থায় ভারসাম্য আসে না।

