আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষীপুর রেলবস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ দল। অভিযানে নারীসহ ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন শিল্পী বেগম (৩০), যিনি এলাকায় ‘মাদক চক্রের নেতৃত্বদানকারী’ হিসেবে পরিচিত বলে দাবি যৌথবাহিনীর।
অভিযানটি চালানো হয় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। পরে আটক ব্যক্তিদের ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়। জেলা সেনা ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গুহলক্ষীপুর রেলবস্তিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, জোরপূর্বক দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। সেনা ক্যাম্পের দাবি, গোপন তথ্য থেকে জানা যায়, শিল্পী বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকাভিত্তিক একটি সংগঠিত মাদক চক্র পরিচালনা করছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, নারীদের মাধ্যমে গাঁজা, ইয়াবা ও হেরোইন খোলাখুলিভাবে বিক্রি হচ্ছিল। এসব মাদক ভারত থেকে এনে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা হচ্ছিল বলেও জানানো হয়।
অভিযানে মোট ৪৫ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ৩৩৭টি ইয়াবা, ২১১টি হেরোইনের প্যাকেট, ৬১টি দেশীয় অস্ত্র, দুটি বিদেশি মদের বোতল, নয়টি ফিচার ফোন ও ১০টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন জব্দ করা হয়েছে।
সেনা ক্যাম্প জানায়, সেনাবাহিনীর ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা পুলিশের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালনা করেন। প্রথম ধাপে সাতজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে বস্তির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এবং শিল্পীর বাড়ি থেকে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সেনা ক্যাম্পগুলোকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান বলেন, ‘আটকদের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। বিকেলের মধ্যে মামলা রুজুসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

