ভুয়া পাসপোর্ট ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে নারীদের মধ্যপ্রাচ্যে পাচারে সহায়তার অভিযোগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) নয় কর্মকর্তাসহ কয়েকটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ সংস্থার সহকারী পরিচালক স্বপন কুমার রায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম।
মামলার আসামিরা হলেন—
- বিএমইটি’র উপপরিচালক (বহির্গমন) মো. সাজ্জাদ হোসেন সরকার
- সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হোসেন উল্লাহ আকন্দ
- জনশক্তি জরিপ কর্মকর্তা মো. নিজামউদ্দিন পাটোয়ারি
- অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আজাদ হোসেন
- এইচ. এ. ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজিং পার্টনার মো. আনোয়ার হোসেন
- কে. এইচ. ওভারসিজের ম্যানেজিং পার্টনার মো. সালাউদ্দিন
- মক্কা ওভারসিজের মালিক মো. জামাল হোসেন
- তাসনিম ওভারসিজের ম্যানেজিং পার্টনার মো. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া
- এস. এম. ম্যানপাওয়ারের পার্টনার একরামুল হক
দুদক সূত্রে জানা গেছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে যোগসাজশে গৃহকর্মী হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নামে নারীদের পাচারে জড়িত ছিলেন। তারা প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া পাসপোর্ট ও নকল কাগজপত্র তৈরি করে সেসব নারীদের ‘প্রত্যাগত’ হিসেবে দেখিয়ে ছাড়পত্রের অনুমোদন আদায় করেন।
এ ক্ষেত্রে প্রকৃত আবেদনকারীর পরিবর্তে ভিন্ন নারীদের পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করে আবেদন দাখিল করা হয়। বিএমইটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের ডাটাবেজ যাচাই না করেই, এসব ভুয়া আবেদন নোট আকারে উপস্থাপন করে ছাড়পত্র প্রদানে অনুমোদন দেন।
এছাড়া সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বয়সসীমা (২৫ বছর) লঙ্ঘন করে মাত্র ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী অন্তত ৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীকে অবৈধভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সরকার নির্ধারিত মন্ত্রণালয় পরিপত্রেরও লঙ্ঘন হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৪৬৭ (জাল দলিল প্রস্তুত), ৪৬৮ (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি), ৪৭১ (জাল দলিল ব্যবহার), ১০৯ (সহায়তা প্রদান) এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭- এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এর আগে অভিযান চালিয়ে দুদক কিছু প্রমাণ ও নথিপত্র জব্দ করে। মামলার তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

