কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ী এলাকায় মা ও ছেলেমেয়েকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আট আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাঙ্গরা বাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের সোমবার আট আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি শেষে কুমিল্লার ১১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল হক বুধবার প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আট আসামি হলেন—কড়ইবাড়ী গ্রামের মো. সবির আহমেদ (৪৮), মো. নাজিম উদ্দীন বাবুল (৫৬), বাচ্চু মিয়া, রবিউল আওয়াল (৫৫), দুলাল (৪৫), আতিকুর রহমান (৪২), বয়েজ মাস্টার (৪৩) ও আকাশ (২৪)।
গত ৩ জুলাই সকালে কড়ইবাড়ী গ্রামে খলিলুর রহমানের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই বাড়ির বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে স্থানীয় কয়েকজন এই হামলা চালায়। হামলায় খলিলুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা বেগম ওরফে রুবি (৫৩), ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) ও মেয়ে তাসপিয়া আক্তার ওরফে জোনাকি (২৯) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন রুবির আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (২৮)। তিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নিহত পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিল। স্থানীয়দের ক্ষোভ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে।
তবে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, মোবাইল চুরির একটি ঘটনা কেন্দ্র করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। মামলাটি এখন কুমিল্লা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়েছে। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নয়ন কুমার চক্রবর্তী।

