বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮’ সংশোধন করে নতুন একটি অধ্যাদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। নতুন এই আইনের নাম “The Code of Criminal Procedure (Amendment) Ordinance, 2025”। গত বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংসদ অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এই অধ্যাদেশ জারি করেন। সংশোধিত আইনে যুক্ত হয়েছে নতুন ধারা ১৭৩A, যা বিচার ব্যবস্থায় এক মানবিক সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন:
মামলার তদন্ত চলাকালে যেকোনো পর্যায়ে পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার বা সমমর্যাদার কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (IO) মামলার অগ্রগতি জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিতে পারবেন। - আগাম অব্যাহতির সুযোগ:
অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন বিশ্লেষণে যদি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে সেই প্রতিবেদন আদালতে (ম্যাজিস্ট্রেট বা ট্রাইব্যুনাল) দাখিল করা যাবে। আদালত প্রতিবেদন যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে ওই ব্যক্তিকে আগাম অব্যাহতি দিতে পারবেন। এতে নিরপরাধ ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন মামলা বা হাজতে থাকার ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবেন। তবে, অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান থাকবে। - পুনরায় অভিযুক্ত করার সুযোগ:
অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে অব্যাহতি পাওয়া গেলেও সেটি চূড়ান্ত নয়। পরবর্তী তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তার নাম আবারও অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। এতে প্রকৃত অপরাধীরা ছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই বিধান বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। এতে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানির ঝুঁকি কমবে এবং বিচার ব্যবস্থার উপর চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে। অধ্যাদেশটি ১০ জুলাই গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।

