সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। ওই ঘটনায় করা হত্যা মামলায় পলাতক ২৪ আসামিকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেয়। একইসঙ্গে, অন্য মামলায় আটক রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ আপিলকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে হাজির করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন কৌঁসুলি আব্দুস সোবহান তরফদার ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। সঙ্গে ছিলেন বি এম সুলতান মাহমুদ।
এর আগে মামলার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—পুলিশের সাবেক উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম ও ছাত্রলীগকর্মী ইমরান চৌধুরী আকাশ।
প্রসিকিউটর আব্দুস সাত্তার পালোয়ান জানান, “মামলায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়। এদের মধ্যে চারজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, আরও দুই আসামি অন্য মামলায় আটক রয়েছেন। তাদেরকে এ মামলায় হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের আবেদন করি। ট্রাইব্যুনাল সেটি মঞ্জুর করেছে।” তিনি আরও বলেন, “বাকি ২৪ জন পলাতক আসামির বিষয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী রেজিস্ট্রার অফিস ব্যবস্থা নেবে। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ২২ জুলাই। ওইদিন বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে যাঁরা উপস্থিত হবেন না, তাঁদের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হবে। এরপর মামলার অভিযোগ গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে।”
এর আগে ৩০ জুন আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক ২৬ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়। আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে ৩০ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে আন্দোলনের সময় দুই হাত প্রসারিত অবস্থায় আবু সাঈদকে গুলি করার দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ হয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রচার হলে দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই দিন থেকেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। পরদিন থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন শুরু হয়।
ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে ১৯ জুলাই সরকার কারফিউ জারি করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। একের পর এক মৃত্যু, সরকারি স্থাপনায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তিনি বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন।

