চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১০৮ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং প্রায় ৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনি চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।
আজ রোববার (১৩ জুলাই) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এ এ মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ। তিনি জানান, মামলায় ফজলে করিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফজলে করিম চৌধুরী জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৫ কোটি ৯৪ লাখ ৯২ হাজার ৭৭২ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। পাশাপাশি তাঁর নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবে ১০৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, অনুসন্ধানে ফজলে করিমের নামে ২৪ কোটি ৮ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি টাকা জ্ঞাত আয়ের বাইরে। তাঁর ব্যাংক হিসাবগুলোতে ৫৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা জমা ও ৫৪ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে, ৮ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয় মামলার অনুমোদন দেয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফজলে করিম ভারতে পালানোর চেষ্টা করেন। ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের আবদুল্লাহপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ছাড়া গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ফজলে করিম চৌধুরী টানা ১৬ বছর আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)–তে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

