প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ছাড়া কোনো বিচারব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, বিচার বিভাগের কাঠামোগত স্বাধীনতা শুধু অভ্যন্তরীণ সংস্কারের জন্য নয়, বরং বৃহত্তর শাসনব্যবস্থার সংস্কারেও এটি অপরিহার্য।
গতকাল রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। কর্মশালার শিরোনাম ছিল—‘যথাসময়ে বিচার নিশ্চিত করতে পারিবারিক আদালতের পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসন’। সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেলপ) কর্মসূচির উদ্যোগে এ আয়োজন করে ব্র্যাক।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিতে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা একটি বড় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আইনগত যেসব সংস্কার হচ্ছে, তা কেবল আধুনিকায়নের জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচারকে মানুষের নাগালে আনাই এ পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য।’
তিনি জানান, দেওয়ানি কার্যবিধির সাম্প্রতিক সংশোধনের ফলে মামলা পরিচালনার স্তর কমেছে, যা বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা হ্রাসে সহায়ক হবে। তিনি বিচার বিভাগের সঙ্গে ব্র্যাকের অংশীদারত্বের প্রশংসা করে বলেন, দেশের পাঁচটি অঞ্চলে আয়োজিত বিচার সংশ্লিষ্ট কর্মশালায় মাঠপর্যায়ের চিত্র উঠে এসেছে। এসব কর্মশালায় বিচারক, আইনজীবী, কোর্ট কর্মচারী এবং বিচারপ্রার্থীরা অংশ নেন। সেখানে উঠে আসে—সমন জারির জটিল পদ্ধতি, অনিয়ন্ত্রিতভাবে মামলার মুলতবি, অব্যবস্থাপনার কারণে মামলা ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা, মানসিক সহায়তার অভাব এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। তিনি বলেন, ‘পারিবারিক আদালতে ন্যায়বিচার মানে জয় বা পরাজয় নয়; এটি একটি নিরাময় প্রক্রিয়া। এই ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সহানুভূতিশীল করতে হবে।’ ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজে নারী ও কিশোরীরা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা পেরিয়ে নিজেদের সম্ভাবনা বাস্তবায়নের সুযোগ পায়। সেই লক্ষ্যেই ব্র্যাক জনগণকে সম্পৃক্ত করা, তাদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং নীতিগত ও আইনি সহায়তা দেওয়ার মতো বহু কার্যক্রম চালাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের সেলপ ও জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি (জিজেডি) কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু আদালতের জটিলতা দূর করছি না, বরং বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছি। বিচারপ্রার্থী ভুক্তভোগীদের মর্যাদা রক্ষার মধ্য দিয়ে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি।’

