গত বছরের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় সংঘটিত ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের পরিবারকে কেন ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা করে এবং আহত পাঁচজনকে কেন ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ ও শাস্তির অপর্যাপ্ততা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রুল জারি করেন। মো. নূর আলম ও সুমন মিয়া নামের দুই আহত ব্যক্তি এই বিষয়ে রিট আবেদন করলে আদালত রুল দেন।
আদালতের রুলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক, কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশনের কান্ট্রি ম্যানেজার, ঢাকার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইউএনও, বেপারী পরিবহনের মালিক, বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট দুই থানার ওসিকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী শামসুর রহমান বাদল বলেন, সড়ক পরিবহন আইনের ৯৮, ৯৯ ও ১০৫ ধারায় গুরুতর দুর্ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি মাত্র পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, যা অপরাধের তুলনায় অপ্রতুল। তিনি জানান, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় ধলেশ্বরী টোল প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দেয় কুয়াকাটাগামী বেপারী পরিবহনের একটি বাস। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চারজন, পরে আরো দুজন মারা যান। আহত হন আরো অনেকে।
প্রাইভেটকারে থাকা নূর আলম, তার স্ত্রী অনামিকা, সন্তান আয়াজ, শাশুড়ি আমেনা বেগম, ভগ্নিপতি ইশরাত জাহান, আত্মীয়া রেহামনি, বোন ফাহমিদা আক্তার ও চালক হাবিবুর রহমান সবাই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। নিহত হন রেশমা আক্তার নামে আরেক নারী, যিনি অপর রিটকারী সুমন মিয়ার স্ত্রী। আহত হন তাদের সাত বছরের সন্তানও।
দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল ও বাস তিনটি যানবাহনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর বাসচালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।
রিটকারীদের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান বাদল, রিপন হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক ও খাজা মঈনুদ্দিন।

