রাহাদ সুমন, বরিশাল প্রতিবেদক—
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নতুন পাঁচতলা ভবনটি মেডিসিন ওয়ার্ড নামে পরিচিত। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানের এই বর্ধিত ভবনে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। এখানে ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) রয়েছে।
অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে ভবনটিতে বাইরের আলো-বাতাস প্রবেশ করে না বললেই চলে। ফলে তীব্র গরমের সময় বিদ্যুৎ না থাকলে এখানে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও রোগী ও স্বজনদের দিনের বিভিন্ন সময়ে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়।
নগরের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের অবস্থাও আরও নাজুক। সেখানে দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। রোগী ও স্বজনরা জানান, গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে তাদের নির্ঘুম সময় কাটাতে হয়। অনেকেই ওয়ার্ড ছেড়ে বারান্দা বা খোলা মাঠে বসে থাকেন।
দুই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা জানান, শেবাচিম হাসপাতালের নতুন ভবন এবং জেনারেল হাসপাতালে জেনারেটর নেই। শুধু একটি ফিডারের বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকটে বরিশালে ব্যাপক দুর্ভোগ চলছে। প্রতিটি ফিডারে আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী কমপক্ষে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমে রোগী ও স্বজনরা হাঁসফাঁস করছেন। অনেকে হাতপাখার বাতাসে স্বস্তি খুঁজছেন। প্রধান ভবনের নিচতলায় পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ প্রসঙ্গ উঠতেই পঞ্চাশোর্ধ্ব রোগী আব্দুল ওহাব বলেন, “আমারে প্রধানমন্ত্রীর ফোন নম্বরটা আইনন্যা দেন। আমি ফোন দিয়ো বিদ্যুতের কতা কমু।” বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে রোগী ও স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারা জানান, নগরের অন্যান্য এলাকার মতো এই হাসপাতালেও প্রতি এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যায় এবং লোডশেডিং থাকে অন্তত এক ঘণ্টা। এক রোগীর স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, “রাইত যত বাড়ে বিদ্যুৎ তত বেশি যায়।”
জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মলয় কুমার বড়াল জানান, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জেনারেটর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানিয়েছে, এটি আর সচল করা সম্ভব নয়।
শেবাচিম হাসপাতালের নতুন ভবনে ঝালকাঠির নলছিটি পৌর শহরের ফিরোজ আলম গত এক সপ্তাহ ধরে তাঁর মায়ের চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছেন। তাদের কক্ষে ২৫ শয্যা রয়েছে। তিনি জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ না থাকায় লিফট বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রোগী ও স্বজনরা আরও দুর্ভোগে পড়েন। একই ওয়ার্ডের অন্য রোগীর স্বজনরাও বিদ্যুৎ নিয়ে ক্ষোভ জানান।
আরিফুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বিদ্যুৎ গেলে হাতপাখা, মোমবাতি ও মোবাইল ফোনের আলোই একমাত্র ভরসা।
শেবাচিম হাসপাতালের মুখপাত্র সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল মুনায়েম সাদ জানান, আরেকটি ফিডারের সংযোগ চেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগে আবেদন করা হয়েছে এবং জেনারেটরের চাহিদাপত্র গণপূর্ত বিভাগে দেওয়া হয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্র বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে সব ফিডার পালাক্রমে সচল রাখা হচ্ছে।

