ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনায় ৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবিতে করা একটি মামলার নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছেন মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এবং কোম্পানির বর্তমান ও সাবেক পরিচালকরা।
গত বৃহস্পতিবার ডেলাওয়ারের চ্যান্সারি কোর্টে মামলাটির দ্বিতীয় দিনে বিচারকের সামনে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। মামলাটি করেছিলেন মেটার কয়েকজন শেয়ারহোল্ডার। তাদের অভিযোগ, জাকারবার্গ, প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী মার্ক আন্দ্রেসেন, সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গসহ কয়েকজন কর্মকর্তা যথাযথ নজরদারি না করায় ফেসবুক একাধিকবার ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
তাদের দাবি, এসব ব্যর্থতার দায় শুধু কোম্পানির নয়, পরিচালকরাও ব্যক্তিগতভাবে দায় এড়াতে পারেন না। তাই জরিমানা ও ক্ষতির দায়ভার তাদেরই বহন করা উচিত। যদিও মামলার নিষ্পত্তির শর্তাবলি প্রকাশ করা হয়নি।
বিচারক ক্যাথালিন ম্যাককরমিক নিষ্পত্তির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মামলাটি মুলতবি ঘোষণা করেন। রায় হলে জাকারবার্গ ও স্যান্ডবার্গকে আদালতে সাক্ষ্য দিতে হতো। কিন্তু নিষ্পত্তির ফলে তারা তা এড়িয়ে গেলেন। মামলার প্রক্রিয়ায় জানা যায়, স্যান্ডবার্গ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইল মুছে ফেলেছিলেন। এ কারণে তাকে শাস্তিও দেওয়া হয়।
ডিজিটাল কনটেন্ট নেক্সটের প্রধান জেসন কিন এই নিষ্পত্তিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘ফেসবুক পুরো ঘটনা কিছু ব্যক্তির ওপর চাপাতে চাচ্ছে। কিন্তু আসল সমস্যা তাদের নজরদারিনির্ভর ব্যবসার কাঠামোতেই।’ মামলাটিতে ‘কেয়ারমার্ক ক্লেইম’ নামের একটি আইনি ধারা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ডেলাওয়্যার করপোরেট আইনের আওতায় পরিচালকদের দায়িত্বহীনতা প্রমাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এটি প্রমাণ করা অত্যন্ত কঠিন বলে বিবেচনা করা হয়।
২০২১ সালে ফেসবুকের নাম পরিবর্তন করে মেটা রাখা হয়। প্রতিষ্ঠানটি মামলায় সরাসরি পক্ষ না হলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) ফেসবুককে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড জরিমানা করেছিল। অভিযোগ ছিল, ২০১২ সালের একটি গোপনীয়তা চুক্তি ভেঙে ব্যবহারকারীদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল ফেসবুক।

