কক্সবাজার বিচার বিভাগে বিভিন্ন পদমর্যাদার মোট ১৫ জন বিচারক যোগদান করেছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন জেলা জজ পদে এবং একজন বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া শুরু করেছেন।
গত ৩০ নভেম্বর ও ১ ডিসেম্বর বিচারকরা কক্সবাজার বিচার বিভাগের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভা:) বেদারুল আলম।
যোগদান করা বিচারকদের মধ্যে রয়েছেন:
- মোঃ আবু হানিফ – বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ থেকে জেলা জজ পদে পদোন্নতি পেয়ে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগদান করেছেন।
- রোকেয়া আক্তার – কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক থেকে জেলা জজ পদে পদোন্নতি পেয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া শুরু করেছেন।
- মোঃ রবিউল আলম – অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক থেকে জেলা জজ পদে পদোন্নতি পেয়ে শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগদান করেছেন।
- কাজী সহিদুল ইসলাম – অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ষষ্ঠ আদালতের বিচারক থেকে জেলা জজ পদে পদোন্নতি পেয়ে ল্যান্ড সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
- মামুনুর রশিদ – অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক থেকে জেলা জজ পদে পদোন্নতি পেয়ে পারিবারিক আপীল ট্রাইব্যুনালের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে যোগদান করেছেন।
নতুন এই পদোন্নতিপ্রাপ্ত বিচারকদের যোগদানের মাধ্যমে কক্সবাজার বিচার বিভাগের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কক্সবাজারে বিভিন্ন আদালতে পদোন্নতি প্রাপ্ত ১০ জন বিচারক দায়িত্ব নেন। তাদের মধ্যে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানকৃত বিচারকরা ইতোমধ্যে স্ব স্ব আদালতে বিচারকার্য পরিচালনা করছেন।
প্রধান বিচারকরা হলেন:
-
মোহাম্মদ শফিউল আলম – কুমিল্লা বিদ্যুৎ বিভাগের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) থেকে পদোন্নতি পেয়ে কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছেন।
-
রশিদ আহমেদ মিলন – সিলেটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক পদে পদোন্নতি পেয়ে যোগদান করেছেন।
-
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম – চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
-
সাইয়েদ মাহবুবুল আলম – চট্টগ্রামের যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক পদে যোগদান করেছেন।
-
মোঃ আমিরুল হায়দার চৌধুরী – কক্সবাজারের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।
-
মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী – যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক পদে যোগদান করেছেন।
-
মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ – সিলেটের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ষষ্ঠ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
-
মৈত্রী ভট্টাচার্য – কক্সবাজারের সিনিয়র সিভিল জজ থেকে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
-
মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন – চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চৌকি আদালতের সিনিয়র সিভিল জজ থেকে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক হিসেবে যোগদান করেছেন।
-
মোহাম্মদ আবদুল কাদের – আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে কক্সবাজারের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
নতুন এই পদোন্নতিপ্রাপ্ত বিচারকদের যোগদানের মাধ্যমে কক্সবাজার আদালতের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কক্সবাজার থেকে পদোন্নতি ও বদলীপ্রাপ্ত কয়েকজন বিচারক তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। তারা গত ২৭ নভেম্বর নিজ নিজ দায়িত্ব দপ্তর প্রধানের কাছে হস্তান্তর করেন।
প্রধান পরিবর্তনগুলো হলো:
-
মোহাম্মদ ওসমান গণি – কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর জেলা ও দায়রা জজ থেকে চট্টগ্রামের শ্রম আদালত-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে বদলী হয়েছেন।
-
আক্তার হোসেন – কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে হবিগঞ্জের শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের জেলা ও দায়রা জজ হয়েছেন।
-
আবদুল কাদের – কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক থেকে পদোন্নতি লাভ করে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ এর জেলা ও দায়রা জজ পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
-
নিশাত সুলতানা – কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক থেকে পদোন্নতি লাভ করে রাঙ্গামাটির শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এর জেলা ও দায়রা জজ হয়েছেন।
-
সেঁজুতি জান্নাত – কক্সবাজারের সিনিয়র সিভিল জজ পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
-
আনোয়ারুল কবির – কক্সবাজারের চকরিয়া চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থেকে পদোন্নতি পেয়ে সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
-
হামিমুন তানজিন – কক্সবাজারের লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ পেয়েছেন।
-
মোহাম্মদ আলমগীর – কক্সবাজারের সিনিয়র সিভিল জজ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলী হয়েছেন।
নতুন দায়িত্বে যোগদানের মাধ্যমে এসব পদোন্নতিপ্রাপ্ত ও বদলীপ্রাপ্ত বিচারকরা নিজ নিজ আদালতের কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে সক্ষম হবেন। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও অন্যান্য ট্রাইব্যুনালে ২ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক অবকাশকালীন আদালত অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে জরুরি ফৌজদারী, দেওয়ানী ও শিশু মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি করার জন্য জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে অবকাশকালীন বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভা:) বেদারুল আলম জানিয়েছেন, বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহিম আগামী ৯, ১০, ১১, ১৪, ১৫, ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর মোট সাত দিন আদালত পরিচালনা করবেন। অপরদিকে, কক্সবাজার জেলা আদালতে নতুন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে বিপ্লব কুমার দাশ কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১ ডিসেম্বর আইন ও বিচার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশে বিভিন্ন আদালতে কর্মরত ২০ জন সাঁটলিপিকারকে পদোন্নতি দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে পদায়ন করা হয়। বিপ্লব কুমার দাশ এর আগে চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতের সাঁটলিপিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

