বুধবার (৭ জানুয়ারি) হাইকোর্ট একইদিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা রিট শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন।
রিটের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি বলেন, হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি শুনতে অপারগতা জানিয়েছে। এরপর তিনি আবেদনটি বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন অন্য হাইকোর্ট বেঞ্চে জমা দিয়েছেন।
রিটটি গত ৫ জানুয়ারি দায়ের করা হয়। এতে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা স্থগিত করার আবেদন করা হয়। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, সংবিধানে অন্তর্বর্তী সরকারের কথা কোথাও নেই। তাই এই সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচনের আয়োজন কেবল তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্বাচিত সরকারের অধীনে সম্ভব।
রিটে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণায় আইনগত ও সংবিধানিক সমস্যা রয়েছে। তাই তফসিলের কার্যকারিতা স্থগিত করে আদালত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
হাইকোর্ট বেঞ্চের অপারগতা প্রকাশের পর বিষয়টি এখন অন্য বেঞ্চে স্থানান্তরিত হয়েছে। আইনজীবীরা আশা করছেন, নতুন বেঞ্চ বিষয়টি দ্রুত বিবেচনা করবে এবং সংবিধান ও নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দেবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সমন্বয় সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও তফসিল সংক্রান্ত বিতর্ক ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও আইনগত পরিবেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রিটে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা ও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে হাইকোর্টে রিটটি চলায় বিভিন্ন পক্ষ মনোযোগী হয়ে উঠেছে। আইনজীবীরা মনে করছেন, আদালতের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
সংবিধান ও নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের পূর্বে তফসিল ঘোষণার প্রক্রিয়া এবং ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ সংবেদনশীল। তাই আদালতের বিবেচনা এই প্রক্রিয়ার আইনগত বৈধতা নির্ধারণে সহায়ক হবে।এই রিট নির্বাচনী পরিবেশে আইনি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল বৈধ কিনা তা নিশ্চিত করতে আদালতের পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য।

