আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের সম্প্রসারণমূলক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়নের মাধ্যমে দুই খাতেই কাঠামোগত পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, শিক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাতে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো শিক্ষার মান উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং সমতা নিশ্চিত করা।
প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষকদের জন্য ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচি চালু করার কথা বলা হয়েছে, যাতে পাঠদান আরও প্রযুক্তিনির্ভর হয়। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পোশাক, স্কুল ব্যাগ এবং জুতা বিতরণের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে কয়েক হাজার কোটি টাকার পৃথক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ অব্যাহত থাকবে। এর জন্য আলাদা অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু থাকবে, যা শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও উপস্থিতি বাড়াতে সহায়ক হবে।
নারী শিক্ষার প্রসারে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম বজায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি কর্মসূচিতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করবে।
শিক্ষাবহির্ভূত শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমও চলমান থাকবে। একই সঙ্গে মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করে কর্মমুখী শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উচ্চশিক্ষায় গবেষণা উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নতুন উদ্ভাবন ও গবেষণাকে উৎসাহিত করবে।
অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ০১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।
মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন, ওষুধ ও টিকার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করতে দেশব্যাপী বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ রয়েছে, যা সেবা প্রাপ্তিকে আরও সহজ ও দ্রুত করবে।
এছাড়া বেকার যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য চার মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিকল্পনাও বাজেটে রাখা হয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। সব মিলিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এই বাজেট প্রস্তাবকে আধুনিকায়ন, প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

