প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে যখন আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগ করে, তখন দেশের অনেক আন্দোলনকারী নেতার ডাকের সাড়া দেন ‘মুরুব্বি’ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ‘দেশ উদ্ধারের স্বার্থে’ এক অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন তিনি। সেই সময়ে জাতি তাঁর দিকে আশা রেখে বসেছিল বিশ্বাস ছিল, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিশ্বমানচিত্রে মর্যাদা বাড়বে, মানুষের সুযোগ-সুবিধা প্রসারিত হবে এবং দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর পর্যন্ত দেড় বছরের মধ্যবর্তী সময়ে এই স্বপ্ন কতটুকু বাস্তবায়িত হলো? কালের কণ্ঠ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নোবেলজয়ী কতটা নিজের স্বার্থে সুবিধা আদায় করেছেন।
এই সময়ে দেশের একমাত্র নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদন পায় গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিচালনা করে গ্রামীণ ট্রাস্ট, যার প্রতিষ্ঠাতা হলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগের বছরগুলোতে ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকলেও, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র তিন মাসের মধ্যে অনুমোদন পায়। অনেকে এই ‘রকেট গতি’ অবাক হয়ে দেখলেও, সময়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ওই সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনি নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে নানা সুবিধা আদায় করেছেন। গ্রামীণ ব্যাংককে ৫ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়, যার ফলে সরকার রাজস্ব থেকে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বঞ্চিত হয়। এর পাশাপাশি গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টের এক হাজার ৪৩ কোটি টাকা ফাঁকি এবং ৬৬৬ কোটি টাকার কর মওকূফের মতো সুবিধা নিয়েছেন।
বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি ও লাইসেন্স অনুমোদন:
ক্ষমতার চেয়ারে বসার পর ড. ইউনূস সাতটি মামলার মধ্যে নিজেকে মুক্ত করেছেন, যার মধ্যে আলোচিত দুর্নীতি মামলা রয়েছে। এছাড়া দ্রুততার সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স গ্রহণ এবং ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ ই-ওয়ালেটের লাইসেন্স পাওয়ার জটিলতা সমাধান করেছেন।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রামীণ ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত। আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে প্রধান উপদেষ্টার শপথ গ্রহণের আগে তিনি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরে দাঁড়ালেও দায়িত্ব ছাড়ার পর আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে ক্ষমতার সুবিধা নেওয়া কার্যত অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হয়।
আইনের আড়ালে স্বার্থের কৌশল:
গ্রামীণ ট্রাস্টের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র তিন মাসের মধ্যে অনুমোদন পায়। দেশে আগেই অন্তত ২২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকলেও গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় এই অস্বাভাবিক দ্রুত অনুমোদন পায়। এই ঘটনাটি শুরু থেকেই বিতর্ক ও প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা সংরক্ষিত তহবিল থাকা বাধ্যতামূলক কিন্তু গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনপত্রে মাত্র দেড় কোটি টাকার শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের কেউই স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। কেউ দায়িত্বে না থাকার কারণ দেখিয়েছেন, আবার কেউ বিষয়টি মনে নেই বলে এড়িয়ে গেছেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা সরকারি নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় তহবিল জমা দিয়েছে এবং এটি একটি সামাজিক উদ্যোগ, লাভের উদ্দেশ্যে নয়।
সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল। কিন্তু গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক দ্রুততা, আইনি শর্তে অসঙ্গতি এবং অন্যান্য আবেদন ঝুলে থাকার প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্ষমতার ছোঁয়ায় কোটি কোটি রাজস্ব হারালো সরকার:
২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জারি হওয়া গেজেট অনুযায়ী, গ্রামীণ ব্যাংককে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর অর্থ, এই সময়কালে ব্যাংকের সব ধরনের আয় করমুক্ত থাকবে। পূর্ববর্তী হিসাব অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা কর দিত প্রতিষ্ঠানটি। এ হিসাবে, আগামী পাঁচ বছরে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি এক হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে। বিশেষ করে বড় রাজস্ব ঘাটতির সময়ে এটি বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইন ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর-জিডিপি অনুপাত কম থাকা অবস্থায় এমন দীর্ঘমেয়াদী অব্যাহতি পুনর্বিবেচনা করা উচিত ছিল। আন্তর্জাতিক মনিটরি ফান্ড (আইএমএফ) আগে কর অব্যাহতি কমানোর শর্ত দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে নতুন করে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পরে আইন পরিবর্তন করে বলা হয়, ভবিষ্যতে কর অব্যাহতির জন্য সংসদের অনুমোদন লাগবে। তবে গ্রামীণ ব্যাংক এই সুবিধা পেয়েছে তার আগেই।
অন্যদিকে, গ্রামীণ ডিস্ট্রিবিউশন ভ্যাট সুবিধা পেলেও শর্ত অনুযায়ী উৎপাদন না করে আমদানির ওপর নির্ভর করেছে। এ নিয়ে তদন্তে অসঙ্গতি ধরা পড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টের বিরুদ্ধে প্রায় ১,০৪৩ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। মামলা এখনও চলমান। একই সঙ্গে ঋণের সুদকে লভ্যাংশ হিসেবে দেখিয়ে ৬৬৬ কোটি টাকার কর নির্ধারণ হলেও পরবর্তীতে আদালতের রায়ে তা বাতিল হয়।
মামলা মিটিয়ে অর্জিত বিশেষ সুবিধা:
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নানা সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সাতটি মামলা থেকে অব্যাহতি, ই-ওয়ালেট লাইসেন্স অনুমোদন এবং জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স প্রাপ্তি যেগুলো অস্বাভাবিক দ্রুততায় সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উদাহরণস্বরূপ, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড ১৬ বছর ধরে লাইসেন্স না পেয়ে ঝুলে থাকার পর ২০২৫ সালে জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স এবং বায়রার সদস্যপদ পায়। একইভাবে, দীর্ঘদিন আটকে থাকা ‘সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড’ মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ই-ওয়ালেট লাইসেন্স পায়। এই সব প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ট্রাস্টের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অন্যদিকে, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া শ্রম আইন লঙ্ঘন ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলা রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দ্রুত নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহার হয়ে যায়। এর মধ্যে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় সাজা বাতিল এবং দুদকের অর্থ আত্মসাতের মামলা প্রত্যাহার উল্লেখযোগ্য।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুবিধা নেওয়া স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে এবং এটি শপথের পরিপন্থী হতে পারে। যদিও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, সব প্রক্রিয়া আইন মেনে সম্পন্ন হয়েছে। সব মিলিয়ে, ক্ষমতায় থাকার সময় দ্রুত লাইসেন্স অনুমোদন, মামলা নিষ্পত্তি এবং নীতিগত সুবিধা গ্রহণ এসব ঘটনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস, স্বার্থের রাজ্যে জনগণের কষ্ট:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় আঠারো মাসে দেশে আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও জনজীবনে বড় ধরনের অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। লেখকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময়ে মব সন্ত্রাস, রাজনৈতিক সহিংসতা, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট বেড়ে যায়। একই সঙ্গে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছায়।
অর্থনীতিতে প্রভাবও ভয়ঙ্কর। খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক ঋণ, সুদের হার বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ স্থবিরতা দেখা দেয়। বহু কারখানা বন্ধ হয়ে শ্রমিক চাকরি হারান, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়, আর উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে।
বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো থমকে যায়, বিদেশি চুক্তিগুলো বিতর্ক সৃষ্টি করে, এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। সব মিলিয়ে, এই আঠারো মাস দেশের স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক গতি ও জননিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কৃতকর্মের পুরো সিরিজ বেআইনি:
সুপ্রিম কোর্টের দুজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাত ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মতামত দিয়েছেন। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রীয় পদে থেকে কোনো ব্যক্তি নিজের বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধা নেওয়া শপথের পরিপন্থী এবং এটি ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধানের মৌলিক চেতনা হলো, জনগণের প্রতিনিধি দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে। এজন্য যাঁরা সরকার বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে আসেন, তাঁদের শপথ নেওয়া বাধ্যতামূলক। শপথের মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে, ব্যক্তি দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করবেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা মুনাফার জন্য পদ ব্যবহার করবেন না।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আরো বলেন, “কেউ যখন ব্যবসা করেন, তখন তার জন্য শপথ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় গেলে শপথ বাধ্যতামূলক হয়। এটি নিশ্চিত করে যে কেউ সরকারি পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জন করতে পারবে না। কেউ যদি করে, তা ক্ষমতার অপব্যবহার।”
ড. মোরসেদ আরও বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে বসে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তিনি নিজের স্বার্থে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করেছেন, যা রাজনৈতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে। মূলত এটি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট এবং শপথ ভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে। তিনি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।”
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের শেয়ার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে, ফলে জনগণের মালিকানা কমে তাঁর নিজের মালিকানা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি মারাত্মক ধরনের স্বার্থ সংঘাত। জনগণ তাঁকে বসিয়েছিল প্রধান উপদেষ্টা পদে জনগণের স্বার্থ দেখানোর জন্য, কিন্তু তিনি নিজের স্বার্থ দেখেছেন। এটি সংবিধান লঙ্ঘন।”
মনজিল মোরসেদ মনে করেন, প্রধান উপদেষ্টা পদে থেকে করা প্রতিটি স্বার্থসংক্রান্ত কাজ বাতিল করা উচিত। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার হয়তো তা করবে না। তবে দেশের নাগরিকরা আদালতের মাধ্যমে এই কর্মকাণ্ড চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। শিগগিরই বিষয়গুলো আদালতে যাওয়া সম্ভব।”
ড. মোরসেদ আরও ব্যাখ্যা দেন, কেন সেই সময় এসব বিষয়ে চ্যালেঞ্জ হয়নি। “দেশ তখন অস্থিতিশীল ছিল। তখন উনি এমন একটি বাহিনী তৈরি করেছিলেন যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করত। আদালতও তখন দৃঢ় অবস্থান নিতে পারেনি, নাহলে তার ওপর আক্রমণ হতো। ভবিষ্যতে অবশ্যই কেউ এগুলো আদালতের সামনে আনবেন।”
অন্যদিকে আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক মন্তব্য করেন, সংবিধানের ধারা ১৪৭ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সাংবিধানিক পদে থাকাকালীন লাভজনক কাজে নিযুক্ত হতে পারবেন না। উদাহরণ হিসেবে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দিনে কোর্টে কাজ করেন, রাতে চেম্বারে কাজ করা অনুমোদিত নয়। রাষ্ট্রপতিও কাজ শেষে সিনেমা হলের ম্যানেজার হতে পারবেন না। আইনজ্ঞের মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর নিজস্ব বা নিজের কর্তৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সুবিধা প্রদান করে এই ধারার লঙ্ঘন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “ড. ইউনূস এখন সরাসরি গ্রামীণের সঙ্গে যুক্ত নন কিন্তু ছোটবেলা থেকে গ্রামীণ বলতে আমরা ড. ইউনূসকেই বুঝি। গ্রামীণের টেলিকম, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংকসহ বহু ব্যবসা রয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই ইউনূস দীর্ঘ সময় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। সরাসরি না হলেও জনগণের ধারণা অনুযায়ী তিনি এখান থেকে সুবিধা নিচ্ছেন। এটি অসাংবিধানিক কাজ এবং যা একজন নোবেলজয়ীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ছিল না।
সূত্র: কালের কন্ঠ

