রাজনৈতিক পরিচয় বদল এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের পরিচয় বদলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে চুরি, ছিনতাই ও সহিংসতার ঘটনায় তার নামে কয়েকটি মামলা হয়। পরে স্থানীয় প্রতিরোধের মুখে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকায় গিয়ে তিনি নতুনভাবে সক্রিয় হন। তখন বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা দাবি করতেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার পরিবর্তনের পর আবার নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে নজরুল নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরেন। এসব ছবি দেখিয়ে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছে গিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি দাবি করার ঘটনাও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দাবি পূরণ না করলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, নজরুল ও তার পরিবারের সদস্যরা বিদেশে পাঠানোর নামে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। এভাবে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর তারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার বাবা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে নজরুল পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না এবং বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি পরিবারের সদস্যরাও সামাজিক মাধ্যমে তাকে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তার কার্যক্রম শুধু প্রতারণা বা চাঁদাবাজিতে সীমাবদ্ধ নয়; চোরাচালান ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেষ্টা করা হলে নজরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে প্রতারণার এই প্রবণতা নতুন নয়। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার না হন।

