ছয় বছর আগের আলোচিত অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন পুলিশ কর্মকর্তা কায়সার রিজভী কোরায়েশী। মুঠোফোনের একটি অডিওতে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইডির তৎকালীন উপপরিদর্শক আকসাদুদ-জামান-কে অপহরণ করে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে কায়সার কোরায়েশীর বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণ ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর টিমের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিভাগীয় তদন্তটি পরিচালনা করেন দেওয়ান জালাল উদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে এবং সে অনুযায়ী প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় আলোচিত হয়ে ওঠে একটি অডিও রেকর্ড, যেখানে আকসাদুদের স্ত্রী তাহমিনা ইয়াসমিন-কে বলতে শোনা যায়—“১ কোটি ২৮ লাখ তো নিছেন আপনারা সবাই, আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে ১৪ লাখ দিছি না?”। এই অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তদন্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও তাঁর টিম ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এসব অপরাধকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার শাস্তি হিসেবে চাকরিচ্যুতি বা অপসারণের বিধান রয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেওয়া হবে।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা নয়, বরং ফৌজদারি মামলাও হওয়া উচিত। তাদের মতে, প্রশাসনিক শাস্তি অপরাধের তুলনায় যথেষ্ট নয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২০ সালে, যখন এক প্রবাসীকে অপহরণ ও অর্থ ছিনতাইয়ের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আকসাদুদ নিজেও অপহরণের শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে। তদন্তে উঠে আসে, তাঁকে জিম্মি করে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। এই পুরো ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, তদন্ত এবং অডিও ফাঁস—সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এটি আলোচিত একটি মামলা হিসেবে রয়ে গেছে। সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনের পর আবারও বিষয়টি সামনে এসেছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।

