জাতীয় সংসদ ভবনে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন ও পরবর্তী সংস্কারকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যয় নির্ধারণ এবং দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন, কাজের মান এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের দায়িত্ব একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পায়। ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো, নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার এবং প্রক্রিয়াগত অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে একই সিস্টেমের সংস্কার কাজেও অনিয়মের অভিযোগ যুক্ত হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর চলতি বছরের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আওতায় আনে দুদক। তদন্তকারীদের দাবি, প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় প্রকল্প অনুমোদন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে কারা জড়িত ছিলেন এবং অর্থের প্রবাহ কীভাবে পরিচালিত হয়েছে—এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় বলে জানা গেছে।
দুদক কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত এখনো চলমান। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ধাপে আরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।

