তেলের আমদানিতে ঘোষিত মূল্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অসঙ্গতির অভিযোগে রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৭৫৫ কোটি টাকার বেশি শুল্ক ও কর আদায়ের চূড়ান্ত দাবি জারি করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের বিভিন্ন আমদানি চালানের বিপরীতে এই রাজস্ব ঘাটতি ধরা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘ চার বছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইস্টার্ন রিফাইনারির ৪৮টি আমদানি বিল অব এন্ট্রির ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিশোধযোগ্য করের তুলনায় কম রাজস্ব পরিশোধ করা হয়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ঘোষিত আমদানি নথির তুলনায় বাস্তবে বেশি সংখ্যক চালান ও জাহাজ সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়া গেছে, যা রাজস্ব হিসাবের অসামঞ্জস্য নির্দেশ করে।
চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, শুধু ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্ষেত্রেই শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, অগ্রিম আয়কর ও উৎসে কর মিলিয়ে ৭৫৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার ঘাটতি শনাক্ত হয়েছে। এই অর্থ আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে কাস্টম হাউস।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি খাতের অধীন আরও চারটি প্রতিষ্ঠান—পদ্মা ওয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা ওয়েল এবং স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানির ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতি পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মোট অনাদায়ী রাজস্ব প্রায় ৪ হাজার ৬১২ কোটি টাকার বেশি।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে নথি যাচাই করে দেখা যায় ঘোষিত ৬৯৫টি বিল অব এন্ট্রির বিপরীতে বাস্তবে ১ হাজারেরও বেশি সংশ্লিষ্ট নথি পাওয়া গেছে, যা আমদানির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। পাশাপাশি বহু জাহাজ-সংশ্লিষ্ট চালানেও ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির পক্ষ থেকে শুনানিতে কিছু অনিয়ম স্বীকার করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি মূলত কেবল আমদানি শুল্ক পরিশোধের পক্ষে অবস্থান নেয়। তবে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ বলছে, আইন অনুযায়ী আমদানি পর্যায়ে শুল্কের পাশাপাশি মূল্য সংযোজন কর, অগ্রিম কর এবং উৎসে করও বাধ্যতামূলকভাবে পরিশোধযোগ্য।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় জ্বালানি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি বর্তমানে কাস্টমসের আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে এবং তদন্ত ও আদায় প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজস্ব বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি আমদানিতে এই ধরনের অসামঞ্জস্য দীর্ঘ হলে তা শুধু রাজস্ব ক্ষতির বিষয় নয়, বরং পুরো জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ইস্টার্ন রিফাইনারির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

