সিলেটে এক বিএনপি নেতার বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্টের প্রায় ৫০ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্য সড়কে মোটরসাইকেলযোগে এসে একদল দুর্বৃত্ত টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এটি পরিকল্পিত ছিনতাই নাকি অন্য কোনো বিরোধের জের—সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানার পারাইরচক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাতের দিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভুক্তভোগী নাসিম হোসাইন ব্যবসায়ী ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের বিভাগীয় পরিবেশক হিসেবে কাজ করেন। তিনি মহানগর বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হলেও পরবর্তীতে দলীয় নির্দেশনায় তার সাংগঠনিক দায়িত্ব স্থগিত রয়েছে।
নাসিম হোসাইনের দাবি, শুক্রবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিতরণের জন্য তিনি ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে প্রাইভেটকারে রওনা দেন। পারাইরচক এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন তার গাড়ির পথরোধ করে। পরে গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা জড়িত এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটরশিপ নিয়ে আগে থেকেই কিছু জটিলতা ছিল কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কারণ এর আগে এই দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ।
মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্বৃত্তদের শনাক্তে বিভিন্ন দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দিনের আলোতে এত বড় অঙ্কের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নগদ অর্থ পরিবহনে নিরাপত্তা দুর্বলতা বড় ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। তারা বড় অঙ্কের অর্থ বহনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

