Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, জুন 13, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ঢাকার ফুটপাত কি চিরকাল অগোছালোই থাকবে?
    অপরাধ

    ঢাকার ফুটপাত কি চিরকাল অগোছালোই থাকবে?

    মনিরুজ্জামানজুন 1, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে একের পর এক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন নীতিমালার আওতায় হকারদের নির্ধারিত স্থানে পুনর্বাসন ও তাদের জন্য সংখ্যাভিত্তিক পরিচয়পত্র ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। উদ্দেশ্য একটাই—ঢাকার পথঘাটে শৃঙ্খলা ফেরানো।

    কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কোথাও পণ্যের স্তূপ, কোথাও আবার মানুষের ভিড়। দীর্ঘদিনের এই অগোছালো পরিস্থিতি দূর করতে যে হকার পুনর্বাসন নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে, তা কার্যকর করার পথে এখনই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

    সিটি করপোরেশনগুলো হকারদের একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে তালিকা প্রণয়ন, স্থান নির্ধারণ এবং পরিচয়পত্র প্রদানের কাজ চলছে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে। ইতোমধ্যে গুলিস্তান, নিউমার্কেট ও মিরপুর ১০ এলাকায় হকারদের বসার নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে ছোট ছোট দাগ কেটে নির্ধারিত জায়গাও তৈরি করা হয়েছে।

    অনেক হকারকে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে, আর বাকিদের তালিকা তৈরির কাজ চলমান। তবে নির্ধারিত স্থানে বসার নির্দেশ থাকলেও তা পুরোপুরি মানছেন না হকাররা। ফলে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কাঠামো এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। উচ্ছেদ, পুনর্বাসন ও নিয়ন্ত্রণ—এই তিন প্রক্রিয়ার মাঝেই আটকে আছে পুরো উদ্যোগটি। ফলে রাজধানীর হকার ব্যবস্থাপনা কার্যত এক জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। পীর ইয়ামিন মার্কেটের পশ্চিম দিকের সড়ক থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত অংশে হকারদের বসার জন্য নির্দিষ্ট দাগ কেটে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত সেই জায়গায় কোনো হকারই বসেননি। বরং আগের মতোই মূল সড়ক ও ফুটপাত দখল করে চলছে তাদের ব্যবসা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও নিয়মিত কোনো নজরদারি দেখা যায়নি। হকারদের ধারণা, তালিকা ও স্মার্ট কার্ড বিতরণ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আগের জায়গাতেই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন। এরপর ধাপে ধাপে নির্ধারিত স্থানে সরানো হবে।

    এদিকে সিটি করপোরেশন হকার নিবন্ধনের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করছে। ইতোমধ্যে কয়েকশ হকারকে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে। এই কার্ডধারীরা নির্ধারিত স্থানে নির্দিষ্ট সময় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। সংগৃহীত ফি মাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে নিয়ে তা উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যয় করার কথা রয়েছে।

    নতুন নীতিমালায় হকারদের জন্য মাসে ১০০ টাকা অথবা বছরে এক হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফুটপাতে বসতে হলে হকারের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। এক পরিবার থেকে শুধু একজনই নিবন্ধনের সুযোগ পাবেন। প্রতিটি হকারকে দেওয়া হবে কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড, যেখানে তার ব্যবসার ধরন, স্থান ও সময় উল্লেখ থাকবে।

    নীতিমালা অনুযায়ী, বসার স্থান এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যাতে পথচারীদের জন্য অন্তত ৫ ফুট জায়গা খালি থাকে। যানজট এড়াতে মেট্রো স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে অন্তত ৩০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

    সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনে নির্দিষ্ট স্থানে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত হলিডে মার্কেট বসবে। আর বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময়ের পর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হকাররা ব্যবসা করতে পারবেন। তবে স্কুল, খেলার মাঠ, উপাসনালয় ও কবরস্থানে কোনো ধরনের হকার বসতে পারবে না। স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণও নিষিদ্ধ থাকবে। নিয়ম ভঙ্গ হলে নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা থাকবে সিটি করপোরেশনের হাতে। তবে এসব নিয়ম ও উদ্যোগের মাঝেও গুলিস্তানের নির্ধারিত জায়গা প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। অন্যদিকে ফুটপাত ও সড়ক দখল করেই চলছে পুরোনো চিত্র।

    এক হকার হামিদুর রহমান বলেন, “অনেকে কার্ড পেয়েছে, অনেকে আবেদন করেছে। কিন্তু নির্ধারিত জায়গায় কেউ যাচ্ছে না। এখনও চাপ তৈরি হয়নি। ঈদের কারণে অনেকে নতুন জায়গায় যায়নি। বাধ্য করলে আমরা যাব।” আরেক হকার, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন, তিনি বলেন, “ওই ছোট জায়গায় বসে ব্যবসা সম্ভব না। তাই কার্ড পেলেও আগের জায়গাতেই আছি।” তিনি আরও দাবি করেন, “সিটি করপোরেশনের ফি থাকলেও ফুটপাতে ব্যবসা চালাতে আলাদা চাঁদা দিতে হয়। দিনে প্রায় ২০০ টাকা দিতে হয় লাইনম্যানদের। আগের মতোই সেই চাঁদা ব্যবস্থা চলছে।”

    সব মিলিয়ে একদিকে চলছে নীতিমালা ও স্মার্ট কার্ডের বাস্তবায়ন, অন্যদিকে রয়ে গেছে পুরোনো অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ। ফলে হকার পুনর্বাসন কার্যক্রম এখনো স্পষ্ট কোনো কাঠামোর মধ্যে আসেনি। গুলিস্তান থেকে মিরপুর—সবখানেই এখন একই প্রশ্ন ঘুরছে, এই উদ্যোগ কি সত্যিই শৃঙ্খলা আনবে, নাকি এটি কেবল আরেকটি অসম্পূর্ণ পরিকল্পনাই থেকে যাবে।

    কার্ডের জন্য আবেদন করা হকার শাজেদুল ইসলাম বলেন, যারা কার্ড পেয়েছে তারাও এখনো নির্ধারিত স্থানে দোকান বসায়নি। আর যারা কার্ড পাননি, তারাও আগের জায়গাতেই ব্যবসা করছেন।

    তিনি জানান, সিটি করপোরেশন কঠোর অভিযান শুরু করলে তখনই নির্ধারিত স্থানে যাবেন। তার মতে, বরাদ্দকৃত জায়গায় ব্যবসা করে আয় করা কঠিন। ঈদের সময় হওয়ায় প্রশাসনও কিছুটা ছাড় দিয়েছে, ফলে সবাই আগের জায়গাতেই ব্যবসা চালাচ্ছে।

    শাজেদুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তার ভাষায়, পরিচিতদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন—সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ফি ছাড়াও লাইনম্যান ও প্রভাবশালীদের ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা না দিলে কার্ড পাওয়া কঠিন। এমন হলে সরকারি উদ্যোগের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। তার মতে, একদিকে সিটি করপোরেশনের মাসিক বা বার্ষিক ফি দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে চাঁদাও দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো এতটাই ছোট যে সেখানে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।

    এদিকে সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, কার্ড বিতরণ ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত এবং ঈদের সময় বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে হকারদের আগের স্থানে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে নীতিমালা পুরোপুরি কার্যকর হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শুধু হকার নয়, যানজটে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরাও। সদরঘাট থেকে গুলিস্তান রুটে চলাচলকারী ভিক্টর পরিবহনের চালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের পর কিছুদিন ফুটপাত ও সড়ক ফাঁকা ছিল। তখন চলাচল সহজ হয়েছিল। তার মতে, এখন আবার হকারদের দখলে ফুটপাত ও সড়ক ভরে গেছে, ফলে গুলিস্তান পার হতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লাগে। তিনি চান, ফুটপাত দখলমুক্ত থাকুক এবং হকারদের জন্য যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।

    এদিকে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সমস্যার সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত, মানবিক ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা। তার মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় সব হকারকে সুযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই হকারদের সংখ্যা বিবেচনায় রেখে যথাযথ জায়গা নির্ধারণ করতে হবে।

    সব মিলিয়ে স্মার্ট কার্ড, নীতিমালা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ চললেও মাঠপর্যায়ে ফুটপাতের চিত্র বদলায়নি। ফলে হকার ব্যবস্থাপনা ঘিরে আবারও তৈরি হয়েছে একই পুরোনো প্রশ্ন—শৃঙ্খলা কি সত্যিই ফিরবে, নাকি পরিকল্পনা শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

    রাজধানীর মিরপুর ১০, মিরপুর ১ ও মিরপুর ২ এলাকার মূল সড়কে ভ্রাম্যমাণ দুই শতাধিক হকারের মাঝে চলতি মাসের শুরুতে ডিজিটাল পরিচয়পত্র বিতরণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এই পরিচয়পত্রের মাধ্যমে হকারদের বৈধতা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য বিকল্প স্থানে ব্যবসার সুযোগ নির্ধারণ করা হয়েছে।

    প্রথম ধাপে ২০২ জন হকারকে এই ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০২ জনকে মিরপুর-১০ এলাকা থেকে মিরপুর-১৩ ও ওয়াসা রোড এলাকায় এবং বাকি ১০০ জনকে গাবতলী কাঁচাবাজার সংলগ্ন ফাঁকা স্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তালিকাভুক্ত মোট হকারের সংখ্যা ৮২৯ জন। ধাপে ধাপে বাকিদেরও পরিচয়পত্র দিয়ে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।

    নতুন ব্যবস্থায় হকারদের নির্ধারিত স্থানের বাইরে ব্যবসা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো স্থায়ী কাঠামো নির্মাণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যুক্ত রয়েছে।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পুলিশের সহযোগিতায় তালিকা তৈরি করে ধাপে ধাপে হকারদের বিকল্প স্থানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের পর পুরোনো স্থানে হকার পাওয়া গেলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। তিনি জানান, হকার পুনর্বাসনের জন্য ছয়টি মাঠ প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল, তবে সরেজমিনে দেখা গেছে সেসব মাঠে শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করে। তাই মাঠ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে পৃথক হকার্স মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) “ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬” অনুযায়ী পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রথম ধাপে ১০০ জন হকারকে গুলিস্তানের রমনা ভবন সংলগ্ন লিংক রোড এলাকায় ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে।

    ডিএসসিসির প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত পুনর্বাসন এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—গুলিস্তান রমনা ভবনের লিংক রোড, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীত পাশে এজিবি কলোনি মাঠ, ইসলামিক চেম্বার সংলগ্ন এলাকা, রাজউক ভবনের পেছন অংশ, টুইন টাওয়ার গলি, বাইতুল মোকাররম পূর্বগেট সংলগ্ন লিংক রোড, নিউ মার্কেট দক্ষিণ গেট সংলগ্ন এলাকা এবং শাজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি মাঠসংলগ্ন রাস্তা। এসব স্থানে দিনে ও সন্ধ্যার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাজার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ধাপে ধাপে সব হকারকে কিউআর কোডযুক্ত পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং ট্রাফিক পুলিশ সহজেই তাদের বৈধতা ও অবস্থান যাচাই করতে পারবে। তিনি জানান, ফুটপাথে হকার বসলেও পথচারীদের চলাচলের জন্য অন্তত ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা খালি রাখতে হবে।

    ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, হকার, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে একটি শৃঙ্খলিত নগর গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে নীতিমালা লঙ্ঘন, অবৈধ চাঁদাবাজি বা লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এদিকে রাজধানীর রাস্তা ও ফুটপাতে হকার বসার জায়গা বরাদ্দকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—এ বিষয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ১৯ মে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আব্দুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

    ঢাকার হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা–২০২৬-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শোয়েবুজ্জামানের পক্ষ থেকে। ওই নীতিমালায় সিটি করপোরেশনগুলোকে রাস্তা ও ফুটপাতে হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

    রুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। তাদের আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে নীতিমালা ও এর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় পথচারীদের জন্য অন্তত ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা রাখার যে শর্ত রাখা হয়েছে, তা একটি মেগাসিটির আধুনিক পরিকল্পনার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রণীত নীতিমালার মাধ্যমে হকারদের ফুটপাত ও সড়কে পুনর্বাসনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার বদলে আরও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে এবং পথচারীদের চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, হকার সমস্যা শুধু ঢাকা শহরের নয়, বরং দেশের বিভিন্ন নগর এলাকায় এটি একটি বড় সমস্যা। এটি পথচারীদের চলাচলে বাধা, নিরাপত্তাহীনতা এবং জনজীবনে ভোগান্তি তৈরি করছে। তাই সারা দেশের জন্য একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও কমিউনিটি পর্যায়ের নজরদারি ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

    তিনি আরও বলেন, নগর এলাকায় হকার নীতিমালা প্রয়োজন ছিল বহু আগেই। দেরিতে হলেও এটি একটি উদ্যোগ, যা হকার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে বর্তমান কাঠামোতে এটি পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের অধিকারকে সীমিত করছে এবং দুই পক্ষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাচ্ছে।

    সব মিলিয়ে হকার নীতিমালা–২০২৬ একদিকে যেমন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে, অন্যদিকে নগর পরিকল্পনাবিদদের কাছ থেকেও উঠছে বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অপরাধ

    চিকিৎসা খাতে ব্যবসার ছায়া—ডাক্তারদের ঘিরে ওষুধ কোম্পানির লোভনীয় প্রস্তাব

    জুন 10, 2026
    অপরাধ

    ঢাকার শহরজুড়ে ১৩৮৭ ছিনতাইকারী—কে দেবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা?

    জুন 9, 2026
    অপরাধ

    বরিশালের দুই যুবককে কম্বোডিয়ায় নিয়ে জিম্মি করে ‎প্রতারণা করতে বাধ্য করার অভিযোগ

    জুন 9, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ডিজিটাল ঋণ সুবিধা, জামানত ছাড়াই মিলবে টাকা

    ব্যাংক জানুয়ারি 10, 2026

    যমুনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হলেন বেলাল হোসেন

    ব্যাংক অক্টোবর 30, 2025

    এক দিনেই ৩–৪ লাখ টাকা ঋণ পাবেন উদ্যোক্তারা

    ব্যাংক ডিসেম্বর 17, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.