ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগের পর তাকে সংগঠন থেকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি কুমিল্লাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে জিসানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমদিকে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। জেলা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপহরণের অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। বরং ব্যক্তিগত একটি সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতা এবং আইনি চাপ এড়ানোর উদ্দেশ্যে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এক তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান জিসান। পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার গর্ভপাত ঘটানো হয়। পরে বিয়ের দাবি জানালে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে নির্ধারিত সময়েও বিয়ে না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। জিসানকে প্রধান আসামি করা হলেও মামলায় আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর বক্তব্য, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জিসান প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বে ছিলেন এবং সংগঠনের কুমিল্লা অঞ্চলেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে অভিযোগ সামনে আসার পর সংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের এক নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি শুধু আইনি নয়, নৈতিক ও সাংগঠনিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। ফলে তদন্তের স্বচ্ছতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের মতো অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই এ ধরনের মামলায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বানও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

