চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সহকর্মী, বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের প্রায় ৩৫ কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে লাভজনক ব্যবসার আশ্বাস দিয়ে বিপুল অর্থ সংগ্রহের পর তিনি হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় অর্থ ফেরত ও অভিযুক্তের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার পুকুরিয়া চাঁনপুর এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, গুনাগরী এলাকার বাসিন্দা ওয়াহিদুল ইসলাম প্রায় এক দশক ধরে পরিচিতজন, বন্ধু ও ৭৩ জন শেয়ারহোল্ডারের কাছ থেকে বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করতেন। দীর্ঘ সময় নিয়মিত মুনাফা দেওয়ায় অনেকেই তাঁর প্রতি আস্থা রেখে আরও অর্থ বিনিয়োগ করেন।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তিনি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে ব্যবসায় সমস্যা দেখা দিয়েছে—এমন অজুহাত দেখিয়ে মুনাফা দেওয়া বন্ধ করে দেন। এরপর বিনিয়োগকারীরা মূলধন ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একাধিক বৈঠকের পর চলতি বছরের ১০ জুন সব পাওনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। পরে ২৪ জুন আবারও টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কয়েকজন পাওনাদারকে ঢাকায় ডাকা হয়। সেখানে গুদামে থাকা পণ্য দেখানোর কথাও বলা হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই আত্মগোপনে চলে যান।
ভুক্তভোগীদের দাবি, পরে এক পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল ফোনে রেললাইনে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিয়ে একটি বার্তা পাঠানো হয়। এরপর থেকেই তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং কোথাও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া কয়েকজন বিনিয়োগকারী বলেন, অধিক লাভের আশায় তাঁরা বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ওই ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছিলেন। বহু বছর নিয়মিত লেনদেন চললেও বর্তমানে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপনে থাকায় তাঁরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, এই ঘটনায় ৭৩টি পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভুক্তভোগীরা আরও দাবি করেন, পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করা হলেও তাঁদের ধারণা, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন অথবা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাই তিনি যদি এখনো দেশ ত্যাগ না করে থাকেন, তাহলে যেন কোনোভাবেই বিদেশে যেতে না পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত ওয়াহিদুল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনা এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। তাদের মতে, সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্থিক দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল হক বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রতারণার অভিযোগে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে ঢাকায় একজন ব্যবসায়ী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তারা শুনেছেন। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ওয়াহিদুল ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিনিয়োগকারীদের উত্থাপিত অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

