জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ও ভুয়া সুপারিশপত্র ব্যবহার করে এমপিও সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় কর্মরত ১৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।
তাদের এমপিও সুবিধা বাতিলের পাশাপাশি সরকারি কোষাগার থেকে এতদিন উত্তোলন করা সব বেতন-ভাতার অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এ-সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করে। আদেশে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) শিক্ষক নিবন্ধন সনদ এবং সুপারিশপত্র যাচাইয়ে এসব শিক্ষকের নথি জাল ও ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত ১৩ শিক্ষকের মে মাসের এমপিও শিট থেকে ইনডেক্স নম্বর বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে তারা আর এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে বেতন-ভাতা পাবেন না।
শুধু এমপিও সুবিধা বন্ধ করেই থেমে থাকেনি সরকার। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা চাকরির সময় থেকে সরকারি অর্থে যে পরিমাণ বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন, সেই পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তারা দেশের বিভিন্ন জেলার মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সিরাজগঞ্জের গোলকপুর সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার মো. নুরুজ্জামান, রংপুরের তারাগঞ্জ ওয়াকফ এস্টেট কামিল মাদ্রাসার মো. মাহবুব রশিদ, পিরোজপুরের বাটাজোড় আলিম মাদ্রাসার মো. আব্দুর রহমান ও মো. মাসুম বিল্লাহ, কুড়িগ্রামের নেওয়াশী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার মো. হারুনুর রশিদ, বাগেরহাটের মল্লিকেরবেড় ফাজিল মাদ্রাসার করিমা খাতুন, সাতক্ষীরার পাতাখালী ফাজিল মাদ্রাসার বিশ্বজিৎ সমাদ্দার, কুমিল্লার পাঁচখুবী আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শহীদুল হক, গাজীপুরের বেলাশী মদিনাতুল উলুম বালিকা আলিম মাদ্রাসার মো. রোকনুজ্জামান, ঢাকার আজিমপুর এলাকার সাতবাড়ীয়া শাহ আমানত (রহ.) দাখিল মাদ্রাসার জালাল উদ্দিন, গাজীপুরের বড়িবাড়ী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার হাসিনা, গাজীপুরের একডালা আউলিয়া বালিকা আলিম মাদ্রাসার মো. মাহফুজুর রহমান এবং নরসিংদীর শেখেরগাঁও জামিউল উলুম সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার নাসরিন সুলতানা।
শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষক নিয়োগে ভুয়া সনদ বা জাল নথি ব্যবহার শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অনিয়ম শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, শিক্ষার মান ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ও নিয়োগসংক্রান্ত নথি যাচাই কার্যক্রম জোরদার করায় একের পর এক জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর ভবিষ্যতেও এমন যাচাই অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে ভুয়া সনদধারীরা সরকারি সুবিধা গ্রহণ করতে না পারেন।
শিক্ষা খাতের বিশ্লেষকদের মতে, জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়াবে। একই সঙ্গে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের জন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

