ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে সরকারি চেক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অতনু বড়ুয়া। তিনি জানান, ফৌজদারি মামলায় কোনো সরকারি কর্মচারী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে প্রচলিত বিধিমালা অনুযায়ী গ্রেপ্তারের দিন থেকেই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তিনজন হলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল এবং বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ ও নুর ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতের ২৬টি সরকারি চেকের টাকার অঙ্ক ও লেখায় পরিবর্তন এনে মোট ৫০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৭ জুলাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার পর উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তবে তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ আদালতে জানায়, অভিযোগের বিষয়টি তাদের তদন্তের এখতিয়ারভুক্ত নয়। এ কারণে তারা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়।
পরবর্তীতে গত রোববার ফুলগাজী আমলী আদালত অভিযুক্ত তিনজনের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের তফসিলভুক্ত অপরাধের আওতায় পড়ে। সে কারণে মামলার নথিপত্র দুদকের কাছে পাঠিয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতনু বড়ুয়া জানান, সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও সরকারি বিধান অনুযায়ী অভিযুক্ত কর্মচারীরা নির্ধারিত হারে খোরপোশ ভাতা এবং প্রযোজ্য অন্যান্য সুবিধা পাবেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনে আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি আর্থিক লেনদেনে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

