সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকার মানিলন্ডারিংয়ের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, গত রোববার রাতে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সহায়তায় পলাশবাড়ী উপজেলা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর ৪(২) ধারায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে হওয়া সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সিআইডির তথ্যমতে, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ২০০৬ সালে হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর দেশে ফেরেন বলে জানা গেছে। ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম পরিবর্তন করে তৌহিদ ইসলাম রাখেন।
তদন্ত সংস্থার দাবি, ধর্মান্তরের পর তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য সম্পাদিত (এডিট করা) ছবি ব্যবহার এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সংরক্ষিত ভুয়া ফোনকল দেখানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সিআইডি জানায়, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি কার্যক্রম এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। তদন্তে দেখা যায়, বৈধ আয়ের কোনো উৎসের তথ্য না থাকলেও তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে এবং প্রায় একই পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তার ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যা তার পরিচিত পেশা বা আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সংস্থাটি আরও জানায়, এর আগে তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং দণ্ডবিধির ১৬৭, ১৬৮, ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় একটি মামলাও দায়ের হয়েছিল।

