বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরের ত্রিশ গোডাউন পর্যটনকেন্দ্রে নৌকা ও ট্রলার থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়ের ঘটনা প্রত্যক্ষ করে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাদী করে মামলা দায়ের এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস এস এম শরিয়ত উল্লাহ এ আদেশ দেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গত ১০ জুলাই জাস্টিস অব দ্য পিস হিসেবে ত্রিশ গোডাউন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি নদীতীরের নৌকা ও ট্রলার থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। ঘটনাটির ভিডিওও গোপনে ধারণ করা হয়।
পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করা হয়, একাধিক মাঝি আদালতকে জানিয়েছেন, ‘সাঈম’ নামের এক ব্যক্তি তার সহযোগীদের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রতিটি নৌকা ও ট্রলার থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করেন। আগে এ ধরনের চাঁদা দিতে হতো না। চাঁদাবাজির কারণে মাঝিরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং পর্যটন কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
আদালত বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গুরুতর আইন লঙ্ঘন এবং এটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। জনস্বার্থ ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
আদেশে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে এজাহারকারী করে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন। তবে এখনো আদেশের অনুলিপি হাতে পাননি। অনুলিপি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

