Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, জুলাই 19, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » কিশোরদের যৌন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে কী কারণ?
    অপরাধ

    কিশোরদের যৌন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার নেপথ্যে কী কারণ?

    নিউজ ডেস্কজুলাই 18, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    দেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় শিশু-কিশোর ও কমবয়সী তরুণদের সম্পৃক্ততা ক্রমেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব অপরাধের মধ্যে যৌনতাকেন্দ্রিক অপরাধের সংখ্যাও কম নয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের তুলনায় অপরিণত মানসিকতা, সঠিক যৌন শিক্ষা ও পারিবারিক-সামাজিক নজরদারির অভাব, প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং অনলাইন কনটেন্টের প্রভাব অনেক কিশোর-কিশোরীকে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে কেউ কেউ যৌনতাকে কেবল বিনোদন বা আকর্ষণের বিষয় হিসেবে দেখছে এবং পরবর্তী সময়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

    কয়েক বছর আগে রাজধানীর কলাবাগানে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে। অভিযোগ ছিল, এক সহপাঠীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি কিশোর-কিশোরীদের যৌন আচরণ, সচেতনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে। এরপর থেকে যৌন হয়রানি, জোরপূর্বক সম্পর্ক স্থাপন, ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে হয়রানি, ধর্ষণ, শিশু যৌন নির্যাতন এবং অনলাইনে যৌন শোষণের মতো অপরাধের খবর নিয়মিত সামনে আসছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব অপরাধে জড়িতদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স ২০ বছরের নিচে। বিষয়টি শুধু অপরাধ নিয়ন্ত্রণের নয়, বরং শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ, মূল্যবোধ, নিরাপদ পরিবেশ এবং সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, কেবল শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ কমানো সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকে একসঙ্গে কাজ করে শিশু-কিশোরদের সঠিক দিকনির্দেশনা, সম্পর্কের বিষয়ে সচেতনতা এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহারের শিক্ষা দিতে হবে। তাহলেই অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে তাদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

    মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কিশোর-কিশোরীদের কিছু যৌন আচরণকে ‘সমস্যাজনক বা ক্ষতিকর যৌন আচরণ’ এবং ‘উদ্বেগজনক যৌন আচরণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বয়স ও মানসিক বিকাশের স্তরের সঙ্গে যেসব আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যা নিজের বা অন্যের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে, সেগুলোই এই শ্রেণিতে পড়ে। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সব উদ্বেগজনক যৌন আচরণ অপরাধ নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এসব আচরণ ধীরে ধীরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে রূপ নিতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রেই কিশোর-কিশোরী, তরুণ, যৌনতা এবং মাদকের মতো বিষয়গুলো কোনো না কোনোভাবে যুক্ত রয়েছে।

    ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, অনলাইনে হয়রানি, নারীর প্রতি সহিংসতা কিংবা যৌন আচরণে বিকৃত প্রবণতার পেছনে কিশোর-কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ব্যবহারের প্রভাবও এ ক্ষেত্রে আলোচনায় আসছে। তবে মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিশু-কিশোরদের এমন আচরণের পেছনে কোনো একটি কারণকে এককভাবে দায়ী করা যায় না। বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও পরিবেশগত নানা বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাব এতে ভূমিকা রাখে।

    অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণাতেও বলা হচ্ছে, কিশোরদের যৌন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি শুধু পর্নোগ্রাফি, পারিবারিক সংকট বা বন্ধুদের প্রভাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। একজন কিশোরের ব্যক্তিগত বিকাশ, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা, পারিবারিক সম্পর্ক, সহপাঠীদের প্রভাব, সামাজিক মূল্যবোধ, অনলাইন পরিবেশ এবং অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়েই বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে হয়।

    কিশোরদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বয়স উপযোগী স্বাস্থ্য শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা গেলে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। অনেকের ধারণা, যৌনতা কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের বিষয় এবং কিশোর-কিশোরীরা এ বিষয়ে আগ্রহী নয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো বয়ঃসন্ধিকাল, আর এই সময় থেকেই শরীর ও মনের নানা পরিবর্তন শুরু হয়।

    গত এক শতকে বিশ্বজুড়ে বয়ঃসন্ধি শুরুর গড় বয়স কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রথম মাসিকের গড় বয়স আগের তুলনায় কমে এসেছে। একসময় যেখানে এটি ১৬ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে শুরু হতো, বর্তমানে অনেকের ক্ষেত্রে তা ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সেই শুরু হচ্ছে। ফলে মেয়েদের বয়ঃসন্ধির শারীরিক পরিবর্তন ৯ থেকে ১১ বছর বয়সের মধ্যেও দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে ছেলেদের ক্ষেত্রেও বয়ঃসন্ধি কিছুটা আগে শুরু হচ্ছে। অনেক ছেলের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সে এর লক্ষণ দেখা যায়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউএনএফপিএর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণত ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের বয়ঃসন্ধিকালীন কিশোর-কিশোরী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে এই বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন কোটি। অর্থাৎ দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ বর্তমানে কৈশোরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

    বয়ঃসন্ধিকালে মানুষের শরীরে যৌন বিকাশের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও এই বয়সে কিশোর-কিশোরীদের প্রাপ্তবয়স্ক যৌনজীবনে প্রবেশ করা উচিত নয়। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, এই বয়সী অনেক ছেলে-মেয়েরই প্রজনন স্বাস্থ্য, শরীরের পরিবর্তন এবং সুস্থ সম্পর্ক সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান নেই।

    এর অন্যতম কারণ হলো, পরিবার ও সমাজে এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা না হওয়া। কৈশোর শুধু শারীরিক পরিবর্তনের সময় নয়, এটি আবেগ, চিন্তাভাবনা, আত্মপরিচয় এবং মানসিক বিকাশেরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এই সময়ে নিজের শরীর ও মন নিয়ে কিশোর-কিশোরীদের নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। কিন্তু সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা না পেলে তারা অনেক সময় ভুল উৎসের ওপর নির্ভর করে এবং বিভ্রান্তিকর ধারণার শিকার হতে পারে।

    বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর পর শিশুদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন সম্পর্কে বয়স উপযোগী শিক্ষা ও সহায়তা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে পরিবার ও সমাজে নিরাপদ প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা এখনও অনেক ক্ষেত্রে অস্বস্তিকর বা নিষিদ্ধ বিষয় হিসেবে দেখা হয়।

    এই নীরবতার কারণে কিশোর-কিশোরীরা প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সামাজিক সংকোচ, ভুল ধারণা এবং বিতর্কের ভয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ একই সময়ে সমাজে যৌনতাকেন্দ্রিক অপরাধ, অনলাইন ঝুঁকি, মাদক এবং অশ্লীল কনটেন্টের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কিশোরদের সুরক্ষায় প্রয়োজন লজ্জা বা গোপনীয়তার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বয়স উপযোগী সচেতনতা তৈরি করা। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ একসঙ্গে কাজ করলেই তাদের সুস্থ মানসিক ও শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

    কিশোর-কিশোরীদের উদ্বেগজনক যৌন আচরণের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে ‘টিন ডেটিং ভায়োলেন্স’ বা কিশোর বয়সের সম্পর্কভিত্তিক সহিংসতা। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের প্রেম বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজন সঙ্গীর মাধ্যমে অন্যজনের ওপর শারীরিক, মানসিক, যৌন কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণই এর অন্তর্ভুক্ত।

    এই ধরনের সহিংসতা শুধু শারীরিক আক্রমণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অপমান করা, মানসিক চাপ সৃষ্টি, ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি ব্যবহার করে হয়রানি, অনলাইনে নজরদারি কিংবা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের মতো আচরণও এর অংশ হতে পারে। কৈশোরে এমন অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

    বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে কিশোর-কিশোরীদের সামনে নানা ধরনের অনলাইন কনটেন্ট, গেম ও বিনোদনের উপকরণ উন্মুক্ত। এর মধ্যে কিছু কনটেন্ট সহিংসতা বা বিকৃত আচরণকে আকর্ষণীয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স উপযোগী দিকনির্দেশনা না থাকলে কিছু কিশোর এসব কাল্পনিক চরিত্র বা আচরণকে ভুলভাবে গ্রহণ করতে পারে এবং বাস্তব জীবনেও ক্ষতিকর ধারণার প্রভাব পড়তে পারে।

    বিশ্বজুড়েই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য ও যৌন শিক্ষা নিয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। কারণ এই সময়েই কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আবেগ, সম্পর্কের ধারণা এবং যৌন বিষয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। তাই তাদের কাছে সঠিক, বৈজ্ঞানিক ও বয়স উপযোগী তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

    শুধু নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর নিয়ন্ত্রণ দিয়ে কিশোরদের আচরণ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। বিশেষ করে বিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা চালু থাকলে শিক্ষার্থীরা শরীর, সম্পর্ক ও নিরাপত্তা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে পারে।

    অনেক অভিভাবকের ধারণা, তাদের সন্তান এসব বিষয়ে জড়িত নয় এবং তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সবসময় এমন নাও হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অনিরাপদ সম্পর্কের কারণে কিছু কিশোরী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। সামাজিক সংকোচ ও প্রয়োজনীয় সেবার অভাবে অনেকে সময়মতো চিকিৎসা বা পরামর্শও নিতে পারে না।

    এদিকে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ‘হাইপার সেক্সুয়ালিটি’ বা অনিয়ন্ত্রিত যৌন আচরণের প্রবণতা দেখা যেতে পারে। এটি সাধারণ যৌন আগ্রহের চেয়ে ভিন্ন। এ ধরনের সমস্যায় ব্যক্তি অনেক সময় নিজের যৌন চিন্তা বা আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যায় পড়ে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানার পরও তা অব্যাহত রাখতে পারে। অতিরিক্ত যৌন চিন্তা, পর্নোগ্রাফির ওপর নির্ভরতা এবং দৈনন্দিন কাজে এর প্রভাব পড়া—এসব বিষয় এ সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

    কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে। তাই তাদের শুধু দোষারোপ না করে প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা, মানসিক সহায়তা এবং নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা। কৈশোরের পরিবর্তনগুলোকে বোঝা এবং সেই অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া জরুরি। কারণ তথ্যের অভাব ও ভুল ধারণা অনেক সময় একজন কিশোরকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব তার ভবিষ্যৎ জীবনেও পড়তে পারে।

    কিশোর-কিশোরীদের উদ্বেগজনক যৌন আচরণ ও অপরাধপ্রবণতা কমাতে শুধু শাস্তি বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের মধ্যে শক্তিশালী ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করা।

    আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী ও অপরাধবিজ্ঞানী ট্র্যাভিস হিরশির সামাজিক নিয়ন্ত্রণ তত্ত্ব এবং সামাজিক বন্ধন তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষের সঙ্গে পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের অর্থবহ সম্পর্ক যত দৃঢ় হয়, অপরাধ বা বিচ্যুত আচরণে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তত কমে। বিপরীতে, এসব সম্পর্ক দুর্বল হলে একজন কিশোর সহজেই নেতিবাচক প্রভাবের দিকে ঝুঁকে যেতে পারে।

    মনোবিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণায় বলা হচ্ছে, কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় বয়স উপযোগী প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক যৌন শিক্ষা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ব্যক্তিগত সীমারেখা সম্পর্কে ধারণা এবং নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    পরিবারে সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ভয় বা শাস্তির সংস্কৃতির পরিবর্তে ইতিবাচক অভিভাবকত্বের মাধ্যমে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এমন পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে থাকা কিশোর-কিশোরীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। যেসব শিশু পারিবারিক সংকট, মানসিক চাপ, একাকীত্ব বা নেতিবাচক পরিবেশের মধ্যে বেড়ে উঠছে, তাদের জন্য প্রয়োজন বাড়তি সহায়তা ও দিকনির্দেশনা।

    বয়ঃসন্ধিকালীন সচেতনতা বাড়াতে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন। এসব উদ্যোগে শুধু পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং ধর্মীয় নেতা, সমাজকর্মী, স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদেরও যুক্ত করা যেতে পারে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া কিশোরদের নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করা কঠিন।

    অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য বা যৌন শিক্ষা দিলে তারা এসব বিষয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা এই ধারণাকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেন। বরং সঠিক শিক্ষা তাদের নিজেদের শরীর, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল আচরণ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

    গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিশোর-কিশোরীরা যেসব বিষয় সম্পর্কে ভুল ধারণার মধ্যে থাকে বা যে তথ্যগুলো তাদের জানা প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে সহজ ভাষায় সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা জরুরি কারণ কৈশোর একটি পরিবর্তনের সময়। এই সময়ে সঠিক তথ্য, সহানুভূতি ও দিকনির্দেশনা পেলে একজন কিশোর সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে। আর অবহেলা বা ভুল তথ্য তাকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিতে পারে।

    কিশোর-কিশোরীদের আচরণ নিয়ে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বরং তাদের বয়স, মানসিক বিকাশ ও বাস্তব পরিস্থিতিকে বুঝে পাশে দাঁড়াতে হবে। কৈশোর এমন একটি সময়, যখন একটি শিশুর ভেতরে নতুন নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়, কিন্তু সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর না পেলে সে ভুল উৎস থেকে উত্তর খুঁজতে পারে।

    সমাজের বড় একটি অংশ এখনও মনে করে, এসব বিষয়ে কথা বললেই সমস্যা বাড়বে। অথচ বাস্তবতা হলো, নীরবতা কখনো সুরক্ষা তৈরি করে না। বরং অজ্ঞতা, ভুল তথ্য ও গোপনীয়তার সংস্কৃতিই অনেক সময় ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। একজন কিশোরের হাতে যখন প্রযুক্তি আছে, কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা নেই; যখন তার মনে প্রশ্ন আছে, কিন্তু উত্তর দেওয়ার মতো নিরাপদ মানুষ নেই—তখন সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে ভুল তথ্য ও নেতিবাচক প্রভাব। তাই প্রশ্ন হলো, আমরা কি শুধু অপরাধের পর প্রতিক্রিয়া দেখাব, নাকি অপরাধের আগেই একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করব?

    কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। তাদের ভয় দেখিয়ে নয়, বোঝার মাধ্যমে; লুকিয়ে নয়, সচেতনতার মাধ্যমে; নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নয়, সঠিক শিক্ষা দিয়ে পথ দেখাতে হবে। কারণ আজকের কিশোররাই আগামী দিনের সমাজ গড়বে। তাদের ভুলের জন্য শুধু তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করালে চলবে না, বরং ভাবতে হবে—তাদের সঠিক পথ দেখানোর দায়িত্ব আমরা কতটা পালন করেছি?

    একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে উঠবে তখনই, যখন আমরা সমস্যাকে আড়াল না করে তা নিয়ে কথা বলতে শিখব। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—আমরা কি অজ্ঞতার দেয়াল তুলে রাখব, নাকি জ্ঞানের আলো দিয়ে আমাদের সন্তানদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি করব?

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অপরাধ

    অর্গানিক পণ্যের নামে প্রতারণা ঠেকাবে কে?

    জুলাই 18, 2026
    অপরাধ

    দুই বছরে নিরাপত্তা হেফাজতে ২৫৭ মৃত্যু, উদ্বেগ মানবাধিকার সংস্থার

    জুলাই 18, 2026
    অপরাধ

    বরিশালে নিষিদ্ধ চায়না জালের দখলে নদী-খাল, হুমকিতে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব

    জুলাই 18, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.