সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম (জেড আই) খান পান্নার মেয়ে নাদিমা মোহাম্মদী খানের ওপর হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বরিশাল নগরীতে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।
বরিশাল কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে নগরীর সদর রোড এলাকায় নাদিমা মোহাম্মদী খানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আহত হওয়ার পর তিনি রোববার সকালে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় তাঁর চাচা নজরুল ইসলাম খান, রেজাউল ইসলাম সাব্বির, জাহিদুল ইসলাম রাজুসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে চাঁদনী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বরিশাল কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মামুনুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় নাম থাকা অন্য অভিযুক্তদেরও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ একটি দল শনিবার সন্ধ্যায় বরিশাল নগরের সদর রোডে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী হাসেম আলী খানের বাসভবনে নাদিমা মোহাম্মদী খানের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
নাদিমা মোহাম্মদী খান অভিযোগ করেন, তাঁকে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে তিনি আর ওই বাড়িতে যেতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় তাঁর চাচা নজরুল ইসলাম খানের উসকানি ও প্রশ্রয় ছিল।
অন্যদিকে, মামলার এজাহারে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মাদকসেবন ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকারও অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার মো. হান্নান বলেছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ, ঘটনার পেছনের পরিকল্পনা এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

