কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। আলোচিত এ মামলায় আরও দুজনের ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত করে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তুলনামূলক পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আমলি আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আদালতের নির্দেশ পাওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুল ইসলাম। অন্যজন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ (রাব্বী)। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্র জানায়, সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম আদালতে আবেদন করে জানান, তনুর জব্দ করা পোশাকের ফরেনসিক পরীক্ষায় একাধিক পুরুষের সম্পূর্ণ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। এসব ডিএনএর সঙ্গে সন্দেহভাজনদের নমুনা মিলিয়ে দেখার জন্য তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহের অনুমতি চাওয়া হয়।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলেন, ডিএনএ প্রযুক্তি মামলার সুষ্ঠু তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভিকটিমের পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হলে প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।
এর আগে গত ৬ এপ্রিল একই মামলায় আরও তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অপর দুই সাবেক সেনাসদস্য জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গত ৮ জুন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন আদালত।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি শেষে নিখোঁজ হন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে।

